পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের উত্তর শৌলা গ্রামের বাসিন্দা জাকির মাতুব্বরের বড় ছেলে মোঃ আল জাবের তুষার ওরফে তুষার ইমরান (২৮) যখন মাদক ব্যবসায়ী। তিনি ছিলেন একজন পুলিশ সদস্য।
তুষার বিভিন্ন অপরাধ অপকর্মে জড়িত থাকার কারণে অনেক আগেই পুলিশ সদস্য পদ থেকে ক্লোজ করে রাখা হয়। বাবা-মা ছেলেকে অনেক চাপসৃষ্টি করে শাসন করলেও আরও বেপরোয়া হয়ে যায় তুষার। তুষারের মা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হিসেবে নির্বাচন করেন কিন্তু নিজের ছেলেদের অপরাধ অপকর্মের কারণে সাধারণ মানুষ ভোট না দেওয়া পরাজয় বরণ করেন মা। এক সময় তুষারের মা অসুস্থতা জনিত কারনে মারা যান।
পরে বিবাহ করানো হয় তুষার কে। পরিবার মনে করেছিলেন তুষার কে বিবাহ করালে ভালো হয়ে যাবে কিন্তু না আরও বেপরোয়া হয়ে মাদকের সাথে জরায়। তার এলাকার তার সঙ্গী কয়েকজন রয়েছে, তাদের শলাপরামর্শে দিনদিন আরও মাদকের সাথে জরিয়ে ব্যবসা শুরু করে দেন। তুষার বিভিন্ন জায়গায় থেকে ইয়াবা এনে ওই সব সঙ্গীদের হাতে দিয়ে বেচা বিক্রি করান। তারাও রয়েছে এলাকায় বিভিন্ন হুমকি ধামকি, চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অপরাধ-অপকর্মের সাথে জরিত। তবে ওইসব সঙ্গীদের সাথে বাউফল থানার পুলিশের কয়েকজন পুলিশ সদস্যের আন্তুরিক সহযোগিতা ও সখ্যতার তথ্য পাওয়া গেছে।
তারই ধারাবাহিকতায় এদিকে তুষার মাদক ইয়াবা আনতে গিয়ে হাতেনাতে কুমিল্লার দাউদকান্দীতে ৫০০ পিস ইয়াবা সহ গ্রেফতার হন দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের হাতে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৬ এপ্রিল-২০২৬) দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আঃ বারীর দিকনির্দেশনায় এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ রেজাউল সঙ্গীয় ফোর্সসহ দাউদকান্দি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজার পশ্চিম পাশে ঢাকা অভিমুখী লেনে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করেন।
চেকপোস্টে তল্লাশিকালে সন্দেহভাজন হিসেবে মোঃ আল জাবের তুষার ওরফে তুষার ইমরান কে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেহ তল্লাশি করে ৫০০ (পাঁচশত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।
তবে তুষার কে জিজ্ঞাসাবাদে জানান- ইয়াবা গুলো তার গ্রামের বাড়ি কালাইয়া ও শৌলায় তার সঙ্গীদের হাতে দিয়ে বেচা বিক্রি করাবেন। যা আগে থেকেই তার ওইসব সঙ্গীদের দিয়ে মাদক কারবারির কাজ করান। সে বর্তমানে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকায় বসবাস করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় দাউদকান্দি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা (নং-৩৭, তারিখ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬) দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এবিষয়ে তুষারের বাবা জাকির মাতুব্বর বলেন- তুষার বাড়িতে আসলে আর যায় না। ৫ দিনের ছুটি এনে ১০/১৫ দিন পরে ডিউটিতে যায়। শুধু শুধু এপসেন করায় তাকে ৬ মাসের জন্য পুলিশ সদস্য পদ থেকে ক্লোজ করে রাখা হয়। আর এখন যা শুনেছি তা আমার জানা নেই। (০৫/০৫/২০২৬)











