সময় যত ঘনিয়ে আসতেছে নির্বাচনের আশঙ্কা তো বেড়ে যাচ্ছে নির্বাচন হওয়া নিয়ে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কোন পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তর্ক বিতর্ক এক প্রকারের শঙ্কা তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। চায়ের টেবিলে পাড়া মহল্লায় যানবাহনে প্রায় সব জায়গায় এখন আলোচনার বিষয়বস্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচন হবে তো।
অন্তবর্তী সরকার শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়ে প্রায় প্রতিদিন বলে যাচ্ছে সব জায়গায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এবং সরকার অনেকগুলো কাজ গুছিয়ে ফেলেছে। নির্বাচন করা নিয়ে সরকারের মধ্যে কোন দ্বিমত নেই এটা স্পষ্ট বোঝা যায় তাদের বক্তব্য এবং কাজের মাধ্যমে কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো এবং কয়েকজন নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের মাধ্যমে আশঙ্কা তৈরি হয়ে যাচ্ছে ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা নিয়ে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার লক্ষ্যে একটি প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করলেও তা এখনো প্রকাশ করেনি যদিও তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি রয়েছে শতভাগ। সময় অনুযায়ী তালিকা প্রকাশ করা হবে বলেও বিএনপির হাই কমান্ড থেকে ঘোষণা করা হয়েছে অপরদিকে আরেকটি বড় রাজনৈতিক দল জামাতে ইসলামী বাংলাদেশ দেশের প্রতিটি আসনে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও চূড়ান্তভাবে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা তা নিয়ে এখনও দোয়াশার মধ্যে রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সহ আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পি আর পদ্ধতিতে করার জন্য অন্তবর্তী সরকারের প্রতি দাবী জানিয়ে আসছে বেশ কিছুদিন ধরে এবং এ বিষয়টা নিয়ে এ দলগুলো রাজপথে বিভিন্ন সভা সমাবেশ করে যাচ্ছে প্রায় প্রতিদিন।
এ পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে জনগণ কতটুকু উপকৃত হবে তা নিয়ে চুলছেড়া কোন বিশ্লেষণ না থাকলেও একটা বিষয় মোটামুটি নিশ্চিত জনগণ ভোটে অংশগ্রহণ করলেও তাদের সংসদ সদস্য কে হবে তা তারা জানতে পারবে না আগে থেকে যতক্ষণ পর্যন্ত দল নির্ধারণ করবে না কোন একজন জনপ্রতিনিধি এলাকায় সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করব। তবে অনেকেই বুঝে নিয়েছে ভোট দিতে পারলেও তাদের পছন্দমত এলাকার কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নাও হতে পারে এবং এতে স্থানীয় জনসাধারণ এবং সংসদ সদস্যের মধ্যে একটি দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যদি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেজন্য সাধারণ ভোটাররা এ পদ্ধতিকে তেমনভাবে গ্রহণ করতে পারেনি এখনো।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ঘোষণা করে দিয়েছে স্পষ্টভাবে চলমান পদ্ধতির বাইরে গিয়ে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয় এবং তারা এ বিষয়টা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে সংবিধান বিরোধী কোন বিষয় নিয়ে এই মুহূর্তে আলোচনা করার প্রয়োজন নেই।
অন্যদিকে আগামী নির্বাচনে জোটবদ্ধ নির্বাচন নিয়ে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমানে। বিএনপি এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে এটা অনেকটাই নিশ্চিত জামাতে ইসলামী বাংলাদেশ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল একীভূত হয়ে বর্তমানে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও নির্বাচনের সময় জামাতের সাথে অন্য কোন রাজনৈতিক দল জোট বদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে মনে হয় না অনেকের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যায় ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধী ভূমিকা পালন করেছিল জামায়াত। রাজনৈতিকভাবে এই তকমা কাঁদে নিয়ে তাদের সাথে কেউ যোগবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করলে বদনামটা তাদের গায়েও এসে উঠবে বলে অনেকেই তাদের সাথে জোটবদ্ধ নির্বাচনে আগ্রহী নয় এটা মোটামুটি নিশ্চিত।
সেক্ষেত্রে জোটগত নির্বাচনে যেতে না পারলেও জামাতে ইসলামি বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এটা নিশ্চিত। এনসিপি অন্যান্য কিছু রাজনৈতিক দলের সাথে জোট করে নির্বাচন অংশগ্রহণ করবে সেটাও এক প্রকার নিশ্চিত। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর রেষারেষির কারণে আগামী ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সঠিক সময়ে সম্পন্ন করতে পারবে কিনা অন্তত সরকার সেটা এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গেছে।
তবে অনেকের মতামত রাজনৈতিক দলগুলো সহযোগিতা করে বর্তমান পরিণতি থেকে উত্তরণ ঘটানোর জন্য ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করার কোন বিকল্প নেই। কারণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না আসলে এবং একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় না বসলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আরো ভঙ্গুর হয়ে যাবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।











