বাংলাদেশের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই সাধারণ মানুষদের মাঝে সব সময় বড় দুইটা রাজনৈতিক দল হিসেবে আসছে। নির্বাচন আসলেই বড় দুইটা মার্কা সব সময় সামনে চলে আসে ভোট দেয়ার জন্য। ধানের শীষ প্রতীক এবং নৌকা প্রতীকের মধ্যে সব সময় ভোটের লড়াই হয়ে আসছে। এটা ছিল একটা নিয়মিত বিষয় বিশেষ করে নির্বাচনের সময়।
কিন্তু আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ভিন্নভাবে। স্বৈরাচারী আচরণের কারণে আওয়ামীলীগের বিদায় ঘন্টা বেজেছে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময় বাংলাদেশ থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতি এক প্রকার বিদায় নিয়েছে। জনসম্পৃক্ততা হারিয়েছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু সাধারণ ভোটারের হিসেবে এখনো নির্বাচনে আওয়ামীলীগ অংশগ্রহণ করলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত না হলেও তাদের ভোট ব্যাংকে অনেক ভোট পড়বে এটাই সবার ধারণা।
অন্যান্য রাজনৈতিক দল গুলোর মধ্যে জামাতে ইসলামী বাংলাদেশ এনসিপি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল বর্তমানে ভোটের রাজনীতি করে যাচ্ছে। তারা সবাই আগামীর ত্রয়ো দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এটা নিশ্চিত। কিন্তু বর্তমান সময়ে ভোটের মাঠে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এ দলটির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সরকার গঠনে রয়েছে অনেক আগে থেকেই তাই বর্তমান সময়ে সরকার গঠনেও এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোন মার্কা ব্যালট পেপারে থাকছে না এতে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখনো পর্যন্ত আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করবে এটা কয়েকটা জরিপে প্রমাণিত হয়েছে।
ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো জোট গত নির্বাচন করলে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল গঠনেরও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে কিছুদিন আগে থেকে যদিও ইসলামী দলগুলোর চেষ্টায় আছে সরকার গঠনের জন্য। সেই হিসেবে বিএনপি’র বিকল্প কোন রাজনৈতিক দল সরকার গঠনের সক্ষম হবে কিনা তা এখন দেখার বিষয় কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আপাতত আগামীতে সরকার গঠনে বিএনপি’র বিকল্প শক্ত কোন রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠেনি সেটা মোটামুটি নিশ্চিত।
সাধারণ ভোটাররা এখনো বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনে সহায়তা করবে এটা সকল পর্যায়ের বিএনপির নেতাকর্মীদের ধারণা তবে রাজনৈতিক কিছু পরিস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের কারণে জনসমর্থন কিছুটা কমে আসলেও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মনে করেন সাধারণ মানুষের মনে এখনো বিএনপি’র জন্য ভালোবাসা রয়েছে তাই বিএনপি প্রার্থীদের কে সাধারণ ভোটাররা ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে সংসদে পাঠাবে তাদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য।
ইসলামিক দলগুলো এবং অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কিছুটা হলেও ধারণা জন্মেছে বিএনপি’র মাঠ পর্যায়ের কিছু উশৃঙ্খল নেতাকর্মীর কারণে জনসমর্থন কমেছে এবং সেই দুর্বল জায়গাটা দখল করতে চাই অন্য রাজনৈতিক দলগুলো। অনেকের অভিমত দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে বিএনপি’র বিশেষ করে সরকার গঠনে তাই আগামীতেও বিএনপি সরকার গঠন করবে এটাই কারণ রাষ্ট্রীয় পরিচালনার মতো কঠিন দায়িত্ব পালনে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন রয়েছে এবং সেই অভিজ্ঞতা রয়েছে বিএনপি’র। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বিএনপি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র গঠন করে দেশের সুস্থতার আর রাজনীতি ফিরিয়ে আনবে এটাই সবার কামনা।
কারণ আগামী রাষ্ট্র গঠনে যদি অভিজ্ঞতাকে কাজে না লাগায় তাহলে নতুন কোন সরকার এসে স্থিতিশীলতা আনতে পারবে বলে মনে হয় না। স্বৈরাচারী পতনের পর আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের টিকে থাকাটা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে তাই আগামীতে বেশ কিছু সময় বিএনপিকেই দায়িত্ব নিতে হবে দেশকে পরিচালনার জন্য। সরকার গঠনে আপাতত বিএনপি’র বিকল্প কেউ আছে বলে এখনো পর্যন্ত মনে হয় না।











