সর্বশেষ

মানিকগঞ্জে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবৈধ ড্রেজিংয়ে নদী চরাঞ্চলসহ জাতীয় গ্রিড ঝুঁকিতে

বিশেষ অনুসন্ধান প্রতিবেদনে একের পর এক বেরিয়ে আসছে,ফরিদপুর ও মানিকগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল জুড়ে সশস্ত্র পাহারায় চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। আমাদের তথ্য অনুসন্ধান জানা যায়,একের পর এক শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে নদীর তলদেশ কেটে নেওয়া হচ্ছে প্রকাশ্যেই। স্থানীয়দের অভিযোগ—আইন, প্রশাসন ও আদালতের নির্দেশনা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে প্রভাবশালী বালু সিন্ডিকেটের কাছে।

বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে ড্রেজারের সারি ফরিদপুর সদর উপজেলার সিএন্ডবি ঘাট ডিগ্রির চর, ডিক্রি চর, নর্থ চ্যানেল, টিলার চর, ইন্তাজ মোল্লার ডাঙ্গী, সাবুল্লা শিকদার ডাঙ্গী, জক্রেস্বর ও আলীয়াবাদ এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর বুকে বসানো হয়েছে একাধিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার।

একই চিত্র মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার চর বাঘুটিয়া, বাঘুটিয়া বাজার, বাঁচা-মরা চর এবং শিবালয় উপজেলার চর তেওতা এলাকায়। দিনরাত চলছে বালু উত্তোলন, আর তা পরিবহন করা হচ্ছে ট্রলার ও বাল্কহেডে।
সশস্ত্র পাহারা, আতঙ্কে চরবাসী।

চট্টগ্রামে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রেজারের চারপাশে দেশীয় অস্ত্রধারী পাহারাদার মোতায়েন থাকে। কেউ ছবি তুলতে গেলে বা প্রতিবাদ জানালে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়। ফলে চরবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে তীব্র আতঙ্ক।

একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “নদী কেটে নিচ্ছে জীবন্ত দেহের মতো। ঘরবাড়ি ভাঙছে, ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে; কিন্তু আমরা কিছু বলতে পারি না।”সিন্ডিকেটের অভিযোগ ফরিদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন চরে স্থানীয়দের অভিযোগ, আলম শেখ নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ একটি চক্র সশস্ত্র পাহারায় একাধিক ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।

অন্যদিকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার চর বাঘুটিয়া ও বাঁচা-মরা চরে মোস্তাফিজুর রহমান প্রিন্সের অনুসারীরা একই কায়দায় নদী থেকে বালু তুলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। হাইকোর্টের আদেশ উপেক্ষার অভিযোগ

রুপগন্জের পূর্বাচলে অপহৃত শিশু মাইশা

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি শিবালয় উপজেলার চর তেওতা এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকায় বালু উত্তোলনের ওপর হাইকোর্টের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা সত্ত্বেও জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুঁটির গোড়া থেকে বালু কেটে নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা—এভাবে তলদেশ ক্ষয় অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বিদ্যুৎ টাওয়ার, যা আঞ্চলিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
প্রযোজ্য আইন ও সম্ভাব্য শাস্তি বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২৩) অনুযায়ী—অনুমতি ছাড়া বালু উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ;সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড;
৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড;সংশ্লিষ্ট ড্রেজার ও যন্ত্রপাতি জব্দের বিধান রয়েছে।

এছাড়া, আদালতের আদেশ অমান্য করা সংবিধানসম্মত বিচারব্যবস্থার পরিপন্থী এবং তা আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য হতে পারে, যার শাস্তি আরও কঠোর। পরিবেশ আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী তলদেশের অনিয়ন্ত্রিত কাটিং নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি ব্যাহত করে, ভাঙন ত্বরান্বিত করে এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে। এতে দীর্ঘমেয়াদে মানবিক ও পরিবেশগত সংকট তৈরি হয়। প্রশাসনের অবস্থান ফরিদপুর ও মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনবল সংকট থাকলেও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ—মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ এখনো দেখা যাচ্ছে না। জনস্বার্থে জরুরি পদক্ষেপের দাবি চরবাসীর দাবি—অবিলম্বে যৌথ বাহিনীর অভিযান,অবৈধ ড্রেজার জব্দ ও ধ্বংস,জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি,এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। নদী ভাঙন, চর বিলীন ও অবকাঠামোগত ঝুঁকি—সব মিলিয়ে ফরিদপুর ও মানিকগঞ্জের চরাঞ্চল দ্রুত এক গভীর পরিবেশগত ও মানবিক সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশ্ন এখন একটাই—আইনের কঠোর প্রয়োগ কবে নিশ্চিত হবে, নাকি বড় কোনো দুর্ঘটনার পরই নড়বে প্রশাসন?

সাভারে সাব-রেজিস্ট্রার জাকিরের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

ঢাকার সাভারে সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ জাকির হোসেনের অপসারণ, অবৈধ সম্পদের সুষ্ঠু তদন্ত, গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ...

Read more

সর্বশেষ

ADVERTISEMENT

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত


সম্পাদক ও প্রকাশক : মাে:শফিকুল ইসলাম

কার্যালয় : ভাদাইল, ডিইপিজেড রোড, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা-১৩৪৯

যোগাযোগ: +৮৮০ ১৯১ ১৬৩ ০৮১০
ই-মেইল : dailyamaderkhobor2018@gmail.com

দৈনিক আমাদের খবর বাংলাদেশের একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে দৈনিক আমাদের খবর, অনলাইন নিউজ পোর্টালটি সব ধরনের খবর প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রচারিত অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলির মধ্যে এটি একটি।

ADVERTISEMENT