সর্বশেষ

নির্মাণ খাতের বড় একটি অংশ ইটভাটার ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং সমস্যায় মালিকেরা

মাইনুল ইসলাম

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও উপজেলা গুলোতে নির্মাণ খাতের বড় একটি অংশ বর্তমানে ইটভাটার ওপর নির্ভরশীল। তবে গত কয়েক বছর ধরে কাঁচামালের সংকট, প্রশাসনিক কড়াকড়ি, পরিবেশগত বিধিনিষেধ এবং জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা সমস্যায় বিপাকে পড়েছে সারাদেশে স্থানীয় ইটভাটা শিল্প। একসময় মৌসুমজুড়ে উৎপাদনে ব্যস্ত থাকা অনেক ইটভাটা এখন আংশিক কিংবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

তথ্যের সূত্রে অনুসন্ধানে জানাজায়,ভাটা মালিকদের অভিযোগ রয়েছে,মাটি সংগ্রহে নিয়ন্ত্রণ আরোপ ও প্রশাসনিক অভিযানের কারণে কাঁচামাল জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে প্রশাসন বলছে,পরিবেশ রক্ষা ও কৃষিজমি সংরক্ষণে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লক উৎপাদনে সরকার উৎসাহ দিচ্ছে, যা এই শিল্পে কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের বেশিরভাগ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ইট উৎপাদনের একটি বড় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেশের জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ইটভাটা। স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন,আবাসন, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা নির্মাণকাজে এসব ভাটার ইটই প্রধান উপকরণ হিসেবে দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

রৌমারীতে মেধাবী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ দাবি আখিরুলের

দেশের কয়েকটি জেলার স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও মৌসুমভিত্তিক প্রত্যেক জেলা ও উপজেলায় কয়েকশ করে এবং তার চেয়ে বেশি ভাটা সক্রিয় ছিল। এসব ভাটায় হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। তবে বর্তমানে অনেক ভাটা বন্ধ হয়ে গেছে, আবার অনেকগুলো দেখা যাচ্ছে সীমিত উৎপাদনে চলছে।

কাঁচামাল হিসেবে ইট তৈরির প্রধান উপাদান মাটি। কৃষিজমির টপসয়েল কাটার ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে—এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়েছে। ফলে মাটি সংগ্রহে বড় সংকট দেখা দিয়েছে। ইটভাটা মালিক সমিতিগুলা বলেন,“ইটভাটার প্রধান উপাদান মাটি। কিন্তু এখন মাটি কাটায় কড়াকড়ি এত বেশি যে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল পাওয়া যাচ্ছে না। মাটি না থাকলে ভাটা চালানোই অসম্ভব।”

বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক মালিক সমিতি বলছে,বাংলাদেশের বেশিরভাগ জেলাগুলোতে ইটভাটা মৌসুম আসলে প্রতিবছরই আমাদের ভাটা গুলোতে নেমে আসে প্রশাসনিক অভিযান, অর্থদণ্ড জরিমানা জেল ইত্যাদি। এই সমস্ত মোকাবেলা করেই আমাদের প্রতিবছর সরকারি রাজস্ব লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। দিতে হয় লক্ষ লক্ষ টাকা ট্যাক্স আয়কর তবু আমাদের উপর বিভিন্ন কায়দায় চাপিয়ে দেওয়া হয় অভিযানের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা জরিমানা। এতে করে মালিকপক্ষ বিপুল সংখ্যক টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
অন্যদিকে শ্রমিক সংকট বিপুল পরিমাণ অগ্রিম টাকা দাদন দিয়ে শ্রমিক কিনে আনতে হয়। তবু কিছুদিন কাজ করে কিছু কিছু মেইল রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়। এরকম অনেক ভাটা মালিক অভিযোগ করে বলেন, আমার এই বছর ২০ লক্ষ টাকা দাদন দেওয়া সমস্ত শ্রমিক নিয়ে রাতের অন্ধকারে মেইল পালিয়ে গেছে, আমি এখন নিরুপায় হয়ে আমার ভাটা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে গিয়েছে। এরকম অনেক মালিকই অভিযোগ করেন কারো ২০ লক্ষ কারো ১০ লক্ষ কারো আবার ৩০ লক্ষ টাকা দাদন দিয়ে শ্রমিক আনতে হয়েছে এবং সেই শ্রমিক রাতের অন্ধকারে পালিয়ে গেছে। বর্তমানে দ্বিগুণ লেবার কস্ট দিয়েও ইটভাটার লেবার সংযোগ ও সংকটে আছি। কস্টিং বেশি হওয়ায় ইটের দাম বেশি অনুরূপ বাজার দর এমনটা পাওয়া যাচ্ছে না। কলার দাম বেশি হওয়ায় কয়লা সংকটেও ভাটা গুলোতে দেখা দিয়েছে নানাবিধ সমস্যা। এরকম ভাবে চলতে থাকলে সামনের দিনগুলোতে ইটভাটা চলাতে খুবই দুষ্কর হয়ে পড়বে। এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারিভাবে ঋণ দিতে হবে এতে করে আমাদের মালিকদেরকেও আরোও উদ্যোগী হতে হবে। আমরা চাই আমাদের সরকারিভাবে আমাদের প্রতি সরকারি দিক থেকে একটু সহানুভূতি ও ব্যাংক ঋণ দিয়ে আমাদের মালিকদের যদি আর্থিকভাবে সহযোগিতা করত আমরা এই শিল্পটিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতাম। আমাদের ইটভাটায় লক্ষ লক্ষ শ্রমিক ও পরিবার রুটি রুজির ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে বিশাল জনগোষ্ঠীর ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করে আসছে এবং সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় হচ্ছে। তাই এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখলে দেশের বেকারত্ব দূর হবে অর্থনীতির চাকা সচল হবে, দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর বেকারত্ব দূর করেনের ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রাখবে বলে আমি মনে করি। মালিকেরা আরোও বলেন, এক একটা ইটভাটা করতে গেলে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে যদি আমরা সরকারের রোশনালে পড়তে হয় তাহলে আমাদের দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। আর আমাদের কথায় কথায় অভিযান জরিমানা করে আমাদের লক্ষ লক্ষ টাকার প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতির সম্মুখীন করছে সরকারি কর্মকর্তারা। ইট শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারের সদিচ্ছা প্রয়োজন ও আমাদেরকে আর্থিকভাবে এই শিল্পকে সহযোগিতা করলে আমরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনে অর্থনীতির চাকা সক্রিয় রাখতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ। তবুও কাঁচামালের সংকটের পাশাপাশি ইট পোড়াতে ব্যবহৃত কয়লার দাম কয়েক দফা বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। কখনও সরবরাহ সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে কয়লা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন মালিকরা।

গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত ২৫

বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সভাপতি নেজাম উদ্দিন বলেন, “কয়লার দাম বেড়েছে, পরিবহন খরচ বেড়েছে, শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে—সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু ইটের দাম বাড়ালে ক্রেতারা ক্ষুব্ধ হয়।”উৎপাদন কমে যাওয়ায় মৌসুমভিত্তিক শ্রমিকদের কাজের নিশ্চয়তা কমেছে। ফলে অনেক শ্রমিক বিকল্প পেশায় চলে যাচ্ছেন।

একই সঙ্গে বাজারে ইটের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে। এতে নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় ঠিকাদাররা বলছেন, সময়মতো ইট না পাওয়ায় কাজ শেষ করতেও সমস্যা হচ্ছে।

ADVERTISEMENT

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত


সম্পাদক ও প্রকাশক : মাে:শফিকুল ইসলাম

কার্যালয় : ভাদাইল, ডিইপিজেড রোড, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা-১৩৪৯

যোগাযোগ: +৮৮০ ১৯১ ১৬৩ ০৮১০
ই-মেইল : dailyamaderkhobor2018@gmail.com

দৈনিক আমাদের খবর বাংলাদেশের একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে দৈনিক আমাদের খবর, অনলাইন নিউজ পোর্টালটি সব ধরনের খবর প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রচারিত অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলির মধ্যে এটি একটি।

ADVERTISEMENT
×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Trulli

নির্মাণ খাতের বড় একটি অংশ ইটভাটার ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং সমস্যায় মালিকেরা