মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যমুনা নদী-সংলগ্ন এলাকায় একাধিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার বসিয়ে সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে নদীতীরবর্তী বসতভিটা ও জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঘুটিয়া বাজার, তিশি মৌজা, চকরমিরপুর, জিয়নপুর, ভাঙ্গা, রমচন্দ্রপুর, অবুদাঙ্গা, পারমস্তুল, চরমস্তুল, জয়ন্ত পাঙতিরছড়া ও বিষ্ণুপুর এলাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ড্রেজারের শব্দে প্রকম্পিত হচ্ছে জনপদ। নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে তীরবর্তী ভূমি দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং ভাঙনের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একাধিকবার প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও স্থায়ী সমাধান আসেনি। অভিযানের নামে সাময়িক তৎপরতা দেখা গেলেও কিছু সময় পর পুনরায় শুরু হয় উত্তোলন কার্যক্রম। তাদের দাবি, একটি প্রভাবশালী মহল প্রশাসনিক নজরদারি উপেক্ষা করে এ অবৈধ ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে। অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিকটে অবৈধ বালু উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তা ফৌজদারি অপরাধের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধন হিসেবে গণ্য হতে পারে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং অভিযোগগুলো যাচাই করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—অভিযান চলমান থাকলে প্রকাশ্যে কীভাবে একাধিক ড্রেজার সচল থাকে? পরিস্থিতি বিবেচনায় অবিলম্বে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা, অবৈধ ড্রেজার জব্দ, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু এবং জাতীয় গ্রিড সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের হুঁশিয়ারি—রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জননিরাপত্তা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর সামাজিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।













