পবিত্র ঈদুল ফিতর দোরগোড়ায়। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় এই উৎসবকে বরণ করে নিতে ঢাকার বাইরের উপজেলাগুলতে চলছে উৎসবের মহোৎসব। সিয়াম সাধনার মাস শেষে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বইছে আনন্দের হিল্লোল। গ্রামের ঈদগাহ ময়দানগুলোতে এখন শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জার কাজ চলছে। রঙিন তোরণ নির্মাণ এবং বিশাল প্যান্ডেলে সেজেছে প্রতিটি জনপদ।
ইতোমধ্যে প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে লাখ লাখ মানুষ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় ঘরমুখো মানুষের এই ভিড় এখন জনস্রোতে পরিণত হয়েছে।
রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে গত দুদিন ধরে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কাটা যাত্রীরা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ভিড় করছেন। লঞ্চ টার্মিনালগুলোতেও দক্ষিণবঙ্গগামী মানুষের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। ভোগান্তি সত্ত্বেও সবার চোখেমুখে রয়েছে বাড়িতে স্বজনদের সাথে ঈদ করার তৃপ্তি ও প্রশান্তি।
ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে প্রশাসনের তৎপরতায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার যানজট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করছেন যাত্রীরা। মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ ও র্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন।
এদিকে গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে এখন সাজ সাজ রব। প্রিয়জনদের আপ্যায়নে চলছে বিশেষ প্রস্তুতি। নতুন পোশাক কেনা থেকে শুরু করে ঈদের নামাজের ঈদগাহ প্রস্তুত করার কাজে ব্যস্ত স্থানীয়রা। হাটবাজারগুলোতেও শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ভিড় করছেন সব বয়সী মানুষ। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদগুলোতে প্রবাসীদের ঘরে ফেরা এবং আত্মীয়-স্বজনের আগমনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
ঈদের ছুটিতে রাজধানী যখন ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে পড়ছে, তখন বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দিতে পরামর্শ দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফাঁকা ঢাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য সিসিটিভি ক্যামেরা ও অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শহরের যান্ত্রিকতা পেছনে ফেলে নাড়ির টানে মানুষের এই যাত্রা প্রমাণ করে যে, উৎসবের আসল আনন্দ লুকিয়ে আছে আপনজনের সাহচর্যে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে একটি আনন্দময় ও নিরাপদ ঈদ উদযাপিত হবে, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।













