জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শনের পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের একথা জানান।
তিনি বলেন, এবারের ঈদগাহ ময়দানের ঈদের নামাজটা স্বাভাবিক কারণে একটু ঐতিহাসিক হবে। কারণটা হচ্ছে, এখানে রাষ্ট্রপতি ঈদের নামাজ আদায় করবেন এবং দীর্ঘদিন পর সারা দেশে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম ঈদুল ফিতর উদযাপন হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায়ের সম্মতি জানিয়েছেন। ফলে সাধারণ মুসল্লিরা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই জামাতে নামাজ আদায়ের বিরল সুযোগ পাবেন।
এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় মন্ত্রী জানান, পুরুষ ও মহিলা মিলে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ এখানে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবে। মহিলাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে বিকল্প ব্যবস্থা কী হবে তা ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার বৈঠক করে পরে গণমাধ্যমকে জানাবেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
ঢাকা সিটি করপোরেশনের আয়োজনে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রধান জামাতের প্রস্তুতির অবস্থা দেখতে আজ সকালে জাতীয় ঈদগাহে আসেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী কাজী শাহে আলম ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম। এ সময় স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার ছিলেন। তারা পুরো ঈদগাহ ঘুরে দেখেন।
প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়
সংবাদ ব্রিফিংয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আমি সানন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের সঙ্গে জামাতে নামাজ পড়বেন। আশা করি আমাদের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যসহ অন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যারা আছেন তারাও এখানে নামাজ পড়বেন। জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের নামাজের ব্যবস্থা আছে। পাশাপাশি মহিলাদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা আছে। এখানে ওযুর ব্যবস্থাও করা আছে।
জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাতে অংশ নিতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রশাসক। ঈদগাহে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ, র্যাব ও অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি। দক্ষিণ সিটির প্রশাসক বলেন, ভিভিআইপির নিরাপত্তার জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স-এসএসএফের সদস্যরা কাজ করছেন।
ভিন্ন সাজে জাতীয় ঈদগাহ
ঈদের জামাত সামনে রেখে জাতীয় ঈদগাহের চারপাশ পরিষ্কার করা হয়েছে। প্রধান ফটকের সামনে নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে তোরণ, যেখানে লেখা রয়েছে, ‘ ওহ মন রমজানে ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। ঈদ মোবারক।’ পুরো ঈদগাহ মাঠ ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। বিছানো হয়েছে কার্পেট। পর্যাপ্ত ফ্যান এবং লাইনের ব্যবস্থা রয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মুসল্লিদের অজুর জন্য রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। অজুর জন্য সারি সারি পানির ট্যাপগুলো নতুনভাবে লাগানো হয়েছে। রাখা হয়েছে সুপেয় পানির ব্যবস্থা। জাতীয় ঈদগাহে পুলিশ ও র্যাবের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ফায়ার ব্রিগেড়ের একটি টিমও জাতীয় ঈদগাহের কাছে থাকবে বলে জানান প্রশাসক। জাতীয় ঈদগাহের প্রবেশ পথ দুইটি। ভিভিআইপিদের প্রবেশের জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গন দিয়ে আলাদা একটি গেট করা হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহে মহিলাদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মহিলাদের প্রবেশ পথও আলাদা করা হয়েছে।













