কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত “ঈদগাঁও কালিরছড়ায় সাহেদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ব্যাগে কি ছিল বিশ হাজার ইয়াবা নাকি টাকা” শীর্ষক সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ব্যবসায়ী শাহেদুল ইসলাম।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, আজগুবি ও অনুমাননির্ভর। এতে তার সামাজিক ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শাহেদুল ইসলাম বলেন, তিনি কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ২নং ওয়ার্ড মধ্যম মাইজপাড়ার বাসিন্দা এবং শামসুল আলম সওদাগরের পুত্র। তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ঈদগাঁও বাজারে সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থেকে তিনি বর্তমানে কক্সবাজার জেলায় পরিচিত একজন ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
তিনি জানান, তার “রামু খেলাঘর” নামক খেলার সরঞ্জামের দোকান পুরো কক্সবাজার জেলায় সুপরিচিত। এছাড়াও তাদের বাপ-চাচা ও ভাইদের ঈদগাঁও বাজারে একাধিক বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি গত ২৫ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন এবং কখনও কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড বা অবৈধ আয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, ভবিষ্যতেও থাকবেন না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদে কোথায়, কখন, কিভাবে, কার কাছ থেকে কী ছিনতাই হয়েছে—এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
শাহেদুল ইসলাম দাবি করেন, একটি কুচক্রী মহল তাকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে প্রভাবিত হয়ে এ ধরনের সংবাদ প্রচার করেছে। তিনি তার ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া ওই সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, গত ৫ মে বিকালে তিনি তার “রামু খেলাঘর” দোকানের এক সপ্তাহের বিক্রির প্রায় ৮ লাখ টাকা একটি ব্যাগে নিয়ে সিএনজিযোগে ঈদগাঁওয়ে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে পানিরছড়া এলাকায় সিএনজি বিকল হয়ে গেলে তিনি ঈদগাঁওগামী একটি টমটম গাড়িতে ওঠেন।
তিনি আরও জানান, কালিরছড়া তেঁতুল গাছতলা এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন যুবক টমটমের গতিরোধ করে দেশীয় অস্ত্রের মুখে তার টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা দ্রুত মোটরসাইকেলযোগে ঈদগাঁওয়ের দিকে পালিয়ে যায়।
ছিনতাইকারীরা হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরিহিত থাকায় কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি। পরে বিষয়টি শুভাকাঙ্ক্ষীদের জানালে তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেন। তবে কাউকে শনাক্ত করতে না পারা এবং তার বাবা অসুস্থ থাকায় তিনি জিডি করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
তিনি বলেন, ছিনতাইয়ের বিষয়টি জানাজানি হলে তার অসুস্থ বাবা মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারেন এবং হার্ট অ্যাটাকের মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এ আশঙ্কায় তিনি বিষয়টি গোপন রাখেন। এছাড়া ঈদগাঁও থানার এক উপ-পরিদর্শকের সঙ্গে জিডির বিষয়ে পরামর্শ করলে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না থাকায় জিডি না করার পরামর্শও পান বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শাহেদুল ইসলাম আরও বলেন, ব্যবসার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত রয়েছেন। তাই ভিত্তিহীন ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।











