মিয়ানমারের কারাবন্দি সাবেক নেত্রী অং সান সু চির সাজার মেয়াদ কমানো হয়েছে। তার আইনজীবী শুক্রবার রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে সরিয়ে দেয়া হয়।
৮০ বছর বয়সী সু চি বিভিন্ন অভিযোগে মোট ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। তার সমর্থকদের দাবি, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল উসকানি, দুর্নীতি, নির্বাচন জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন। তার সাজা এক-ষষ্ঠাংশ কমানো হয়েছে। তবে তিনি বাকি সাজা গৃহবন্দি অবস্থায় কাটানোর সুযোগ পাবেন কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয় বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
জনপ্রিয় এই নেত্রী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে অযৌক্তিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি, এমনকি তিনি কোথায় আছেন সেটিও অজানা। এর আগে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং ৪,৩৩৫ জন বন্দির জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। গত ছয় মাসে এটি তৃতীয়বারের মতো সাজা কমানোর ঘটনা। মিয়ানমারে সাধারণত জানুয়ারিতে স্বাধীনতা দিবস এবং এপ্রিলে নববর্ষ উপলক্ষে এ ধরনের ক্ষমা ঘোষণা করা হয়।
মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ত। যিনি ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থান পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্তে তাকে ক্ষমা করা হয়েছে এবং তার বাকি সাজাও কমানো হয়েছে। ২০২১ সালে মিন অং হ্লাইং এর নেতৃত্বে সু চি ও উইন মিন্তের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়। এর ফলে দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যা এখনো চলছে।
সম্প্রতি ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে বিরোধীদের দমন-পীড়নের কারণে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। সমালোচক ও পশ্চিমা দেশগুলো এই নির্বাচনকে প্রহসন বলে আখ্যা দিয়েছে এবং বলেছে, এটি সামরিক শাসনকে গণতন্ত্রের আড়ালে টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল।










