মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলায় যমুনা নদীর তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া চর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্য আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ও গুলিবর্ষণের মাধ্যমে নৌপথে চরম আতঙ্ক সৃষ্টির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে যমুনা নদীতে চলাচলকারী একাধিক বাল্কহেড জিম্মি করে নৌযান চলাচল ব্যাহত করে এবং নৌপথ ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ ও মাঝি-মাল্লাদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া চর এবং সংলগ্ন নদী এলাকায় অনুসন্ধানকালে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ও নৌযানের মাঝি-মাল্লারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান যে, আলোকদিয়া চর থেকে শুরু করে পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া বাজার এলাকা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ নদীপথ কার্যত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে, যা জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, এতোসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলেও সংশ্লিষ্ট নৌপুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা অত্যন্ত সীমিত, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিকে আরও ত্বরান্বিত করছে। ফলে নদীপথে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
তবে পাটুরিয়া কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়ে থাকে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ১৭ এপ্রিলের গোলাগুলির ঘটনার পর কোস্ট গার্ড সদস্যরা নদীতে টহল জোরদার করলে সন্ত্রাসীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
এবিষয়ে পাটুরিয়া কোস্ট গার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, উক্ত ঘটনার বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবগত নন। তবে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি,অবিলম্বে যৌথ বাহিনীর সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।











