ইরান আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানানো সত্ত্বেও পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দুই বৈরী দেশ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করার জন্য পাকিস্তান সরকার দীর্ঘ সময় ধরে যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল, ইরানের এই সিদ্ধান্তে তা বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। ইসলামাবাদ এখন এক থমথমে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে শহরজুড়ে প্রায় ২০ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ইরান এই আলোচনায় অংশ না নেওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। তেহরানের দাবি, মার্কিন বাহিনী তাদের একটি জাহাজে গুলিবর্ষণ করে বিদ্যমান চুক্তি ভঙ্গ করেছে, যার ফলে এই মুহূর্তে আলোচনার টেবিলে বসা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ইরানের এই কঠোর অবস্থানে পাকিস্তান সরকার বেশ হতাশ, কারণ এই বৈঠক সফল করতে তারা বড় ধরনের কূটনৈতিক বিনিয়োগ করেছিল।
তবে পর্দার আড়ালে এখনো দুই পক্ষকে এক করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ। বর্তমানে আলোচনার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের পথে রয়েছে, যদিও হোয়াইট হাউস থেকে এখনো তাদের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি। ইরান আসবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে কোনো কমতি রাখেনি পাকিস্তান। সম্ভাব্য বিক্ষোভ বা যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুরো শহরকে কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। পাকিস্তান এখনো আশা করছে যে শেষ মুহূর্তে হয়তো আলোচনার পরিবেশ তৈরি হবে এবং দুই পক্ষই সংলাপে ফিরবে।










