যমুনায় ফের বালু মাফিয়া চক্র জাতীয় গ্রিড সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন।
আজ শুক্রবার ৫ জুন ২০২৬ ইং তারিখ থেকে আবারো শুরু হয়েছে,মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের যমুনা নদীর দুর্গম আলোকদিয়া চরে জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় পুনরায় অবৈধ বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি,আঃ রশিদ ও আঃ করিমের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোকদিয়া চরের নির্জন এলাকায় কয়েকটি ড্রেজারের মাধ্যমে যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সশস্ত্র যুবকদের পাহারায় পরিচালিত এই কার্যক্রমের কারণে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারির অভাবে অভিযুক্তরা অনেকটাই নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন,জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারের নিকটবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এতে বিদ্যুৎ অবকাঠামো, কৃষিজমি ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাউকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহে অবৈধ বালু উত্তোলন, পরিবহন ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জেল, অর্থদণ্ড এবং ব্যবহৃত ড্রেজার ও যন্ত্রপাতি জব্দের বিধান রয়েছে।
স্থানীয়রা দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, ড্রেজার জব্দ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
উল্লেখ্য, অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাংলাদেশ বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।












