ভারী বৃষ্টি আর যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া-নলিন এলাকায় তারাকান্দি- ভূঞাপুর টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়কের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
গতকাল সোমবার (২১ জুলাই) রাতেও শাখারিয়া-নলিন এলাকায় তারাকান্দি-ভূঞাপুর টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক নতুন করে বাঁধের প্রায় ৬০ ফুট সড়ক নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
অন্যদিকে সড়কের মাঝখানে নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঝুঁকির কারণে টানা তৃতীয় দিনের মতো মহাসড়কটিতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, যমুনার পানি ও নদীর পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ তারাকান্দি-ভূঞাপুর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে পাউবো। বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বাঁধ রক্ষায় আরও জিও ব্যাগসহ অতিরিক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ।
আরও জানা যায়, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোাতের চাপে শাখারিয়া এলাকায় সড়ক ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে মহাসড়কের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের আশঙ্কায় আশপাশের বাড়িঘরের বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে গোপালপুরসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত হতে পারে। এতে কয়েক লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভাঙনের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। অনেককে প্রায় ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে পরিবহন ব্যয়, ভোগান্তি এবং জনদুর্ভোগ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, প্রতি বছর জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু স্থায়ী নদী শাসনের উদ্যোগ না থাকায় সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটে। সাময়িক নয়, তারা দ্রুত একটি টেকসই নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড.আব্দুস সালাম পিন্টু গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে নদীতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি নদীর তীব্র স্রোতের আঘাত কমাতে সড়কের পাশের বড় বড় গাছ কেটে গাছের গুঁড়ি নদীতে ফেলা হচ্ছে।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল মোর্শেদ বাসস’কে বলেন, যমুনার পানি বৃদ্ধির কারণে নদীতে স্রোতের চাপ রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড পর্যাপ্ত পরিমাণ জিও ব্যাগ সরবরাহ করেছে। নদীর পরিস্থিতি ও স্রোতের গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় রেখে ধারাবাহিকভাবে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। এতে বাঁধ সুরক্ষায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ছিল, তা অনেকটাই কমেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বাসস’কে বলেন, গত রোববার (১৯ জুলাই) স্থানীয়দের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে আমরা ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শক করি। তাৎক্ষনিকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করা হচ্ছে। গতকাল রাতেও নতুন করে বাঁধের ৬০ ফুট নতুন করে ধসে গেছে। বাঁধ ও সড়কটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা রয়েছে।
তিনি বলেন, বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জিওব্যাগ ফেলা অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে দিনরাত কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। যমুনার পানি বৃদ্ধি ও ভাঙ্গন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বাঁধ রক্ষায় আরও জিও ব্যাগসহ অতিরিক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।












