ঢাকার সাভারে সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দুই শিক্ষকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ওই মাদ্রাসার তিন শিক্ষার্থীও রয়েছে।শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান এ তথ্য জানান।পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর সাভার মডেল থানা, আশুলিয়া থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক দল দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
অভিযান চালিয়ে বরগুনা, ভোলা, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে ১২, ১৩ ও ১৫ বছর বয়সী তিন কিশোর রয়েছে। তারা ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। অপর দুজন হলেন মাদ্রাসার শিক্ষক জাবের হোসেন (২১) ও মো. কামরুল ইসলাম (২৬)।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের কয়েকজনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ সময় তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে অভিযোগের বিস্তারিত বিষয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান ইশান বলেন, মামলাটি ঢাকা জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে শিশুটির ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনায় গত ২৩ আগস্ট শিশুটির বাবা আদালতে মামলা করার আবেদন করেন।
পরে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আবেদনটি আমলে নিয়ে সাভার মডেল থানাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।মামলার আরজিতে সাভারের পূর্ব শাহবাগ এলাকার ওই মাদ্রাসার পাঁচ শিক্ষার্থী, চার শিক্ষক ও পরিচালকসহ মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে সরাসরি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার বিষয়ে শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখানো ও নির্যাতনের অভিযোগও করা হয়েছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাটির তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মামলায় অভিযুক্ত বাকি ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।ভুক্তভোগী শিশুর পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রেখে ঘটনার তদন্ত এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
Source: Prothom Alo















