রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা গত মার্চের একটি বিপর্যয়কে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। তবে সাবধানতার কারণে এবার বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। ফেরিঘাটে পৌঁছে বাসের সব যাত্রীকে নামিয়ে দেয়া হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ পরিবহনের বাসটি ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছে ফেরিতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এসময় প্রশাসনিক নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রীদের বাস থেকে নেমে ঘাট এলাকা দিয়ে ফেরির দিকে যেতে বলা হয়। কিছু যাত্রী শুরুতে নামতে অনীহা প্রকাশ করলেও পরে তাদের জোর করে নামিয়ে দেয়া হয়।
এ বিষয়ে বিবিসি বাংলাকে ওই বাসের যাত্রী আব্দুল আহাদ বলেন, ‘সবাই বাস থেকে নেমে ঘাটের পাশ দিয়ে হেঁটে আসছিলাম। সামনে দেখি আমাদের বাসটা গতির সাথে চোখের পলকে পানিতে পড়ে গেল। তিনি আরো বলেন, ‘কয়েকজন নামতে চাচ্ছিল না, পরে তাদেরকে অনেকটা জোর করেই বাস থেকে নামানো হয়।’
সংবাদমাধ্যমকে পরিবহন কোম্পানির দৌলতদিয়া ঘাট তত্ত্বাবধায়ক বারেক শেখ বলেন, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা বাসে ৩৭ জন যাত্রী ছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক, সহকারী ও চালকসহ মোট ৪০ জনের মতো আরোহী ছিলেন। বাসটি ঘাটে ওঠার আগেই যাত্রীরা নেমে গিয়েছিলেন। শুধু চালক ও তার সহকারী বাসে ছিলেন। গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পল্টুন থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ওই ঘটনায় মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবারের ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি ফেরির র্যাম্পে ধাক্কা খায়। মুহূর্তের মধ্যেই এটি ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে তলিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই বাসে থাকা চালক ও সহকারীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ এবং বিআইডব্লিউটিএ’র ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ অভিযান যোগ দিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর বাসটি নদী থেকে টেনে তোলে।
নৌ-পুলিশ জানায়, বাসের ভেতরে আর কোনো যাত্রী পাওয়া যায়নি এবং নিখোঁজের কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি। রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, ‘কম সময়ের মধ্যেই আমরা বাসটিকে উদ্ধার করতে পেরেছি। বাসের ভেতরে কিংবা অন্য কোথাও কেউ নিখোঁজ আছে এমন অভিযোগ নেই।










