গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬’-এর পর্দা উঠল এক মহানাটকীয় ম্যাচের মধ্য দিয়ে। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আসতেকা স্টেডিয়ামে লাখো দর্শকের গগনবিদারী চিৎকারের মাঝে উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করল সহ-স্বাগতিক মেক্সিকো। গোল, আক্রমণ আর লাল কার্ডের রোমাঞ্চে ঠাসা এই ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘকাল মনে থাকবে।
শুরুর ঝড় ও কিনোনেসের গোল
ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই ঘরের মাঠের সুবিধা নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে মেক্সিকো। ম্যাচের বয়স যখন মাত্র ৮ মিনিট, তখনই স্টেডিয়ামকে উল্লাসে মাতান মেক্সিকান ফরোয়ার্ড হুলিয়ান কিনোনেস। ডি-বক্সের ভেতর দারুণ এক পাস থেকে বল পেয়ে নিখুঁত শটে দক্ষিণ আফ্রিকার জাল কাঁপান তিনি (১-০)। পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ‘বাফানা বাফানা’ খ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকা, কিন্তু মেক্সিকোর জমাট রক্ষণের সামনে তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
হিমেনেসের অভিজ্ঞতা ও ব্যবধান দ্বিগুণ
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে কৌশল পরিবর্তন করে মেক্সিকো। ফলও আসে দ্রুত। ৬৬তম মিনিটে মেক্সিকোর অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেস এক দৃষ্টিনন্দন গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন (২-০)। এই গোলের পর ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
ম্যাচজুড়ে লাল কার্ডের মেলা
খেলার ফুটবলীয় নৈপুণ্য ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে রেফারির কঠোর সিদ্ধান্ত এবং খেলোয়াড়দের মেজাজ হারানো। পুরো ম্যাচে মোট ৩টি লাল কার্ডের ঘটনা ঘটে:
-
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপর্যয়: ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লড়াইয়ে ফাউল করে প্রথমে লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার ইয়ায়া সিথোল। এরপর থেম্বা জোয়ানেও লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লে ৯ জনের দলে পরিণত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
-
মেক্সিকোর ধাক্কা: ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে (৯০ মিনিটে) মেক্সিকোর অধিনায়ক সেসার মন্তেস একটি অপ্রয়োজনীয় ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন, যা মেক্সিকোর জয়ের আনন্দে কিছুটা হলেও দাগ ফেলেছে।
ম্যাচ সমীকরণ: মেক্সিকো ২ : ০ দক্ষিণ আফ্রিকা
গোলস্কোরার: হুলিয়ান কিনোনেস (৮’), রাউল হিমেনেস (৬৬’)
এই দুর্দান্ত জয়ের ফলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এ’ (Group A)-এর শীর্ষে জায়গা করে নিল মেক্সিকো। ঘরের মাঠে এমন জয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের অনেক দূর নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে রাখল ‘এল ত্রি’রা।















