সরকারি জমি রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়ায় ভূমি দস্যু ও অবৈধ দখলদারদের রোষানলে পড়েছে আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেল। চক্রটি সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ করার দূরভিসন্ধি নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিরুদ্ধে আন্ডারগ্রাউন্ড ও নিবন্ধনবিহীন বিভিন্ন তথাকথিত অনলাইন পোর্টাল ও সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার শুরু করেছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর এসব খবরের আড়ালের মূল লক্ষ্য প্রশাসনকে চাপে ফেলে কোটি কোটি টাকার সরকারি জমি গ্রাস করা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন বিভিন্ন মৌজার প্রায় শতাধিক বিঘা সরকারি খাস জমি, জলাশয় ও সরকারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী ভূমি দস্যু চক্র অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। কিন্তু বর্তমান আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভুমি) শাহাদাত হোসেন খানের কঠোর নজরদারি, নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান এবং আইনি শক্ত অবস্থানের কারণে চক্রটির সেই চেষ্টা ভেস্তে যায়। এ ছাড়া আমিনবাজার ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান এখানে যোগদানের পর থেকে ভূমি দস্যুদের নানা অপকৌশল ঠেকাতে সঠিক তদারকি ও নামজারীর প্রতিটি ফাইল মনিটরিং করার ফলে ভূমি দস্যু চক্রটির রোষানলে পড়ে।
এ ছাড়া বিগত ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে আমিন বাজার ইউনিয়ন ভূমি অফিস ৭১৬২৫৮৫৬.০০ টাকা রাজস্ব আদায় করে, যা ঢাকা জেলার মধ্যে তহশিল ভিত্তিক সর্বোচ্চ আদায় বলে জানা যায়।
জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় করে তারা তাদের পেশাদারিত্ব অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। সরকারি সম্পদ রক্ষায় ও রাজস্ব আদায়ে প্রশাসনের এই আপসহীন ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সিন্ডিকেটটি। সরাসরি আইনি লড়াইয়ে টিকতে না পেরে তারা এখন ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোনো ধরনের নিবন্ধন বা প্রাতিষ্ঠানিক অস্তিত্ব নেই— এমন কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড ও নামসর্বস্ব অনলাইন পোর্টালকে অর্থায়নের মাধ্যমে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে চক্রটি ফেসবুক ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেক আইডি ব্যবহার করে আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের কর্মকর্তাদের নামে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “যারা এতদিন জাল দলিল আর পেশিশক্তি দিয়ে সরকারি জমি দখল করে আসছিল, প্রশাসনের কড়াকড়ির কারণে এখন তারা কোণঠাসা। নিজেদের পিঠ বাঁচাতে এবং কর্মকর্তাদের ভয় দেখাতে তারা এসব আন্ডারগ্রাউন্ড মিডিয়া দিয়ে মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছে।”
এ বিষয়ে আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভুমি) শাহাদাত হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা প্রশাসনের আইনি দায়িত্ব। কোনো ধরনের অপপ্রচার বা বানোয়াট খবর ছড়িয়ে এই দায়িত্ব থেকে আমাদের বিচ্যুত করা যাবে না।
ইতিমধ্যে এই অপপ্রচারের পেছনে জড়িত মূল হোতা এবং অবৈধ ও নিবন্ধনবিহীন অনলাইন পোর্টালগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা আইনের আওতায় মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অপরাধে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, যারা সরকারি সম্পদ লুটের উদ্দেশ্যে প্রশাসনের সৎ কর্মকর্তাদের বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে, তাদের অতি দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত। একই সাথে নিবন্ধনহীন ও আন্ডারগ্রাউন্ড পোর্টালগুলোর বিরুদ্ধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জনস্বার্থে সরকারি ভূমি রক্ষা এবং ভূমি দস্যুদের এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের এই লড়াইয়ে সাধারণ মানুষ প্রশাসনের পাশে রয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানান।













