বিশেষ প্রতিনিধি :স্বামী সমর সরকারকে হারানোর ১ বছরের মাথায় এবার একমাত্র ছেলে শেখর কুমারকেও হারিয়েছেন বেবি রানী সরকার। একের পর এক স্বজন হারিয়ে দিশেহারা এই মায়ের অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে তাঁর ছেলেকে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
নিহত শেখর কুমার নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়নের দর্শন গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বগুড়ায় একটি বেসরকারি এনজিওতে কর্মরত ছিলেন।পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কর্মস্থল বগুড়া থেকে নিজ বাড়িতে ফেরেন শেখর। বাড়িতে প্রায় ১০ মিনিট অবস্থান করার পর আবার বেরিয়ে যান। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে তাঁকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন মা বেবি রানী সরকার ও স্বজনরা।
পরিবারের দাবি, রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে খোঁজা খুঁজির পর বাড়ির পাশের নদীর পাড়ে অচেতন অবস্থায় শেখরকে দেখতে পান তাঁর মা ও প্রতিবেশী ফরিদা। পরে উপস্থিত লোকজন নিশ্চিত হন, শেখর আর বেঁচে নেই। এ সময় তাঁর পরনে ছিল হাফপ্যান্ট এবং পাশে পড়ে ছিল ব্যবহৃত মোবাইল ফোন।
মৃত্যুর ঘটনাটি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনটি পরীক্ষা করেন। তাদের দাবি, তাতে দেখা যায় ঘটনার দিন শেখরের সঙ্গে বাড়ির পাশের বাসিন্দা শিপ্রা সরকারের একাধিকবার মুঠোফোনে কথা হয়েছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখরের জীবনের শেষ ফোনকলটিও এসেছিল শিপ্রা সরকারের নম্বর থেকে।
এছাড়া শেখরের মোবাইল ফোনে থাকা মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন চ্যাটে বন্ধুদের কাছে শিপ্রার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি পরিবারের। তবে শিপ্রার সঙ্গে সরাসরি মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের কোনো তথ্য মোবাইলে পাওয়া যায়নি বলেও তারা জানিয়েছেন।নিহতের মা বেবি রানী সরকার অভিযোগ করে বলেন,”শিপ্রা সুকৌশলে আমার ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে।
শেখর বাড়ি থেকে বের হয়ে সম্ভবত শিপ্রার কাছেই গিয়েছিল। আমি সন্ধ্যা থেকে দুইবার নদীর পাড়ে খুঁজে এসেছিলাম, তখন সেখানে কিছুই ছিল না। কিন্তু রাত প্রায় ১২টার দিকে আবার গেলে দেখতে পাই আমার একমাত্র সন্তানের নিথর দেহ সেখানে পড়ে আছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। আমি এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ ঘটনায় শিপ্রা কে প্রধান আসামি করে শেখরের মা শ্রীমতী বেবী রাণী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিপ্রা সরকার বা তাঁর পরিবারের বক্তব্য জানা যায়নি।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও শিপ্রাকে পাওয়া যায়নি।ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শেখরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।















