সর্বশেষ

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ২২ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে শতাধিক রোগী, মেঝেতে চলছে চিকিৎসা

চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু - চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে রোগীর চাপ। মাত্র ২২টি শয্যার বিপরীতে গত সাত দিনে ভর্তি হয়েছে ৩২০ জন শিশু। অতিরিক্ত রোগীর চাপে শয্যা সংকট দেখা দেওয়ায় অনেক শিশুকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে একদিকে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে সীমিত জনবল নিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে দুটি কেবিনসহ মোট ২২টি শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি সাধারণ বেড ও দুটি কেবিন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদিনই নির্ধারিত শয্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি শিশু চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসছে। ফলে শয্যা পূর্ণ হওয়ার পরও নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় ওয়ার্ডের ভেতরে তৈরি হচ্ছে তীব্র স্থান সংকট।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিনে অর্থাৎ ১৯ আগস্ট থেকে ২৬আগস্ট রাত ১০টা পর্যন্ত শিশু ওয়ার্ডে মোট ৩২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ আগস্ট ৫৪ জন, ২০ আগস্ট ৫৩ জন, ২১ আগস্ট ৩৭ জন, ২২ আগস্ট ৫৬ জন, ২৩ আগস্ট ৪১ জন, ২৪ আগস্ট ৩৭ জন এবং ২৬ আগস্ট ৪২ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।

বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১০৫ জন। অর্থাৎ ২২টি নির্ধারিত শয্যার বিপরীতে একসঙ্গে চিকিৎসাধীন রয়েছে শতাধিক শিশু। ফলে ওয়ার্ডের স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেকটাই বেশি।

মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া সীমান্তে ১০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

বুধবার (২৬আগস্ট) সরেজমিনে শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, নির্ধারিত শয্যাগুলো রোগীতে পূর্ণ। শয্যা না থাকায় অনেক শিশুকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কোথাও বেডের পাশে, আবার কোথাও ওয়ার্ডের ফাঁকা জায়গায় শিশুদের নিয়ে অবস্থান করছেন স্বজনরা। এতে ওয়ার্ড জুড়ে তৈরি হয়েছে অতিরিক্ত ভিড় ও অস্বস্তিকর পরিবেশ।

শিশুদের চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে থাকা স্বজনদেরও দীর্ঘ সময় ওয়ার্ডে অবস্থান করতে হচ্ছে। সীমিত জায়গার মধ্যে অতিরিক্ত রোগী ও স্বজনের উপস্থিতিতে চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন লসদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, বর্তমানে অতিরিক্ত গরমের কারণে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিতসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। শিশুরা বেশি ঘামছে এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে নানা ধরনের অসুস্থতায় আক্রান্ত হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে এ কারণে শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের শিশু ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যা রয়েছে মাত্র ২২টি। কিন্তু রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই এর তুলনায় কয়েক গুণ বেশি হচ্ছে। ফলে অনেক সময় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও নার্সদেরও অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। জনবলও রোগীর তুলনায় খুবই কম। সীমিত জনবল দিয়ে এত বেশি রোগীকে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, সে তুলনায় শয্যা ও জনবল বাড়ানো প্রয়োজন। অতিরিক্ত শয্যা এবং প্রয়োজনীয় জনবল থাকলে রোগীদের আরও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে রোগীর স্বজনদেরও অনেক কষ্ট হচ্ছে।

শপথের পর দুর্নীতি করিনি, অন্য সংসদ সদস্যদেরও নিশ্চয়তা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ আমির হামজার

শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ৪ মাস বয়সী শিশু জাবের হোসেনের নানী ডলি খাতুন বলেন, আমার নাতির নিউমোনিয়া হয়েছে। তিন-চার দিন ধরে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখিয়েছি। তিনি ওষুধ ও ইনজেকশন লিখে দিয়েছিলেন। বাসায় সেগুলো দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু অবস্থার খুব বেশি উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করেছি।

ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ১ মাস বয়সী শিশু রায়হানের বাবা বলেন, আমার ছেলের এক সপ্তাহ ধরে ঠান্ডা ও জ্বর হয়েছে। জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছিলাম। সেখানে না কমায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এখন বাচ্চা মোটামুটি ভালো আছে।

এদিকে, স্বাস্থ্য সচেতনরা বলছেন, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ সামাল দিতে দ্রুত বাড়তি শয্যা সংযোজন, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি এবং রোগী ও স্বজনদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় বর্তমানে যে সংকট তৈরি হয়েছে, এসব ব্যবস্থা নেওয়া গেলে তা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
২৭ আগস্ট ২০২৬
Trulli

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ২২ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে শতাধিক রোগী, মেঝেতে চলছে চিকিৎসা