সর্বশেষ

বাউফলে হাত বাড়ালেই মিলছে যত্রতত্র মাদক, মাদক নিয়ন্ত্রণ নয় নির্মূলে নামা উচিত

এম জাফরান হারুন

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়িয়ে পরিত্যক্ত বাড়ি, ব্রিজের নিচের স্থান, ঝোপঝাড়, স্কুলের মাঠ-বারান্দা এবং বিভিন্ন নির্জন স্থাপনাকে ব্যবহার করছে। পুলিশের হাতে মাদক কারবারি বা ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা আটক হয়ে কারাগারে গেলেও বিচারবিভাগ হীনতায় কিছুদিনের মধ্যে জামিন পেয়ে আরও পুরোদমে আসে মাদকে।

সূত্র জানায়, মাদকের প্রধান স্পট হলো কালাইয়া ইউনিয়ন তথা শৌলা তারের পোল বাজার যেখানে রয়েছে চিহ্নিত বেশ কয়েকজন মাদক কারবারি সহ ডিলার, শৌলা নুরজাহান গার্ডেনের নদীর তীরবর্তী রাস্তা, কালাইয়া লঞ্চঘাট, কালাইয়া ল্যাংড়া মুন্সির পোলের আশপাশ (এপার ওপার) যেখানে রয়েছে চিহ্নিত একাধিক মাদক মামলার আসামি কারবারি, বড় ডালিমার চর কচুয়া যেতে রাস্তা, বিলবিলাস বাজার আব্দুর রশিদ সরদার মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবনের পিছনে পরিত্যক্ত ভবনের ভিতর, বিলবিলাস নজির মিয়া বাড়ির স্কুল সংলগ্ন রাস্তা তথা বটতলা থেকে পূর্ব দিকের পাকা রাস্তাটা মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের নিরাপদ স্থল, মদনপুরা দরগাবাড়ির রাস্তা, কালীশুরীর বিভিন্ন চিহ্নিত রাস্তা সড়ক, সূর্যমনির বিভিন্ন স্পট, কনকদিয়ার আমিরাবাদ এলাকা সহ চুনারপোল সহ বিভিন্ন স্পট, বগার বিভিন্ন পরিত্যক্ত ভবন বা জায়গা, আদাবাড়িয়ার মিলঘর এলাকা বিভিন্ন স্পট যেখানে রয়েছে বড় বড় ডিলাররা, কাশিপুর বাজারের আশপাশ, চন্দ্রদ্বীপ হলো ভোলা থেকে আসার এক নিরাপদ রুট তথা ধুলিয়া ও কেশবপুরের বিভিন্ন চিহ্নিত রাস্তা বা পয়েন্ট, কাছিপাড়ার কারখানার নদীর তীরবর্তী এলাকা সহ বাউফল পৌর শহরের চিহ্নিত বিভিন্ন স্পট, নওমালার বিভিন্ন স্পট ইত্যাদি ইত্যাদি বিভিন্ন স্থানে মাদক কেনাবেচার মনোরম পরিবেশ।

আবার অনলাইন জুয়া ও ক্যারাম খেলার আড়ালে মাদক বেচাকেনার স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় চার-পাঁচজন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়া খেলছে কিংবা ক্যারামবোর্ড খেলছে। বাইরে থেকে সাধারণ আড্ডা বা খেলাধুলা মনে হলেও এর আড়ালে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো স্থানে ক্যারাম খেলার পাশাপাশি মাদক বিক্রি এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে মাদক সরবরাহের ঘটনাও ঘটছে। ফলে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা না করে বিভিন্ন কৌশলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলছে সংশ্লিষ্টরা—এমন দাবি স্থানীয়দের। অটোগাড়ি ও রিকশার গ্যারেজে, মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড নজরদারির দাবি।

সরকারি রাস্তার বালুর নামে ব্রহ্মপুত্রে ‘বালু লুট’! ‎অতিরিক্ত বালু উত্তোলন করে বিক্রির অভিযোগ

স্থানীয়দের মতে, গ্যারেজের আড়াল ব্যবহার করে সহজেই অবস্থান পরিবর্তন করা যায় এবং সন্দেহ এড়ানো সম্ভব হওয়ায় এসব স্থান মাদকসংশ্লিষ্টদের কাছে নিরাপদ হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে রাতের বেলায় বিভিন্ন স্কুলের মাঠ, বারান্দা এবং নির্জন স্থানেও মাদকসেবীদের আড্ডা বসার অভিযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে শুধু নিয়মিত টহল যথেষ্ট নয়; ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি ও অভিযান বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে উপরোক্ত বিভিন্ন স্পট বা পয়েন্ট, রাতের বেলায় নির্জন হয়ে যাওয়া স্থানগুলোতে নজরদারি জোরদার করার দাবি উঠেছে।

একই সঙ্গে অনলাইন জুয়ার আসর বন্ধ, প্রকাশ্যে ক্যারাম খেলার আড়ালে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আইনসম্মতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ কর্মসূচিতে রেঞ্জ ডিআইজি

স্থানীয়দের আরও দাবি, পুলিশ যে বিটের দায়িত্বে রয়েছে, সেই বিটে নিয়মিত উপস্থিতি ও কার্যকর টহল নিশ্চিত করতে হবে। কোনো এলাকায় নিয়মিত চার-পাঁচজনের সন্দেহজনক জমায়েত দেখা গেলে আইন অনুযায়ী তাদের পরিচয় ও কর্মকাণ্ড যাচাই করা প্রয়োজন। তবে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন তল্লাশি বা জব্দের ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রচলিত আইন ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদক বিক্রির সম্ভাব্য স্পটগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হোক। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়া, মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সচেতন মহলের প্রত্যাশা, মাদকমুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যকর নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা দ্রুত জোরদার করা উচিত এবং মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশকে শপথ পড়িয়ে মাঠে নামানো উচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কঠোরভাবে হস্তক্ষেপ কামনা করে তারা আরও প্রত্যাশা করেন, সচেতনতা বাড়াতে প্রতিটা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোচনার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণ নয় নির্মূলের জন্য নামা উচিত।

ADVERTISEMENT

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত


সম্পাদক ও প্রকাশক : মাে:শফিকুল ইসলাম

কার্যালয় : ভাদাইল, ডিইপিজেড রোড, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা-১৩৪৯

যোগাযোগ: +৮৮০ ১৯১ ১৬৩ ০৮১০
ই-মেইল : dailyamaderkhobor2018@gmail.com

দৈনিক আমাদের খবর বাংলাদেশের একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে দৈনিক আমাদের খবর, অনলাইন নিউজ পোর্টালটি সব ধরনের খবর প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রচারিত অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলির মধ্যে এটি একটি।

ADVERTISEMENT
×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Trulli

বাউফলে হাত বাড়ালেই মিলছে যত্রতত্র মাদক, মাদক নিয়ন্ত্রণ নয় নির্মূলে নামা উচিত