হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশনার পরও মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত আলোকদিয়া চর এলাকায় থেমে নেই অবৈধ বালু উত্তোলন। প্রভাবশালী একটি চক্রের প্রত্যক্ষ মদদে প্রকাশ্যে ৮ থেকে ৯টি ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলে বাল্কহেডে পরিবহন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সরেজমিনে আলোকদিয়া চর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারের আশপাশে একাধিক ড্রেজার বসিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে বালু তোলা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় অবৈধ ড্রেজার চালিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। সেখান থেকে নিয়মিত বাল্কহেডের মাধ্যমে বালু পরিবহন করা হচ্ছে এবং নদীর তীরজুড়ে চলছে লোড-আনলোডের কাজ।
অব্যাহত ও অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের ফলে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, এতে নদী তীরবর্তী ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও জনবসতির পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন মাঝে মধ্যে লোকদেখানো অভিযান পরিচালনা করলেও নৌপুলিশের দুর্বল নজরদারি ও নিয়মিত টহলের অভাবে ড্রেজার মালিক চক্রটি বারবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। পাশাপাশি নৌপুলিশকে জোরালো টহল ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও আশঙ্কাতুর বাসিন্দারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। আদালতের নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন ঘটিয়ে আলোকদিয়া চরে স্থায়ী নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।












