ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের শুরুর দিকের উপস্থিতি রাজনৈতিক পরিস্থিতির চূড়ান্ত চিত্র তুলে ধরতে যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন বীরজাইত বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানী নিবেল খলিল। তাঁর মতে, নির্বাচনের ফলাফল ও পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে শেষ মুহূর্তেও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খলিল জানান, ভোটগ্রহণ শুরুর প্রথম তিন ঘণ্টায় ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ ভোট পড়ার তথ্য সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে এই হারকে সাম্প্রতিক কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম উচ্চ প্রারম্ভিক উপস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক উপস্থিতির হার দেখে শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ সুবিধা পাবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
নির্বাচনের দিন ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি হতে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই বিশ্লেষক। একই সঙ্গে নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা কারচুপির আশঙ্কার কথাও তিনি তুলে ধরেন। এসব আশঙ্কা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বা প্রমাণ আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
নির্বাচনের পর সরকার গঠনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী কিংবা বিকল্প দলের নেতাদের সঙ্গে জোট করতে পারেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে খলিল বলেন, বিভিন্ন ধরনের সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গাদি আইজেনকোট ও মনসুর আব্বাসের মতো নেতাদের সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ইসরাইলে সরকার পরিবর্তন হলেই ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ সহজ হয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন খলিল। তাঁর মতে, নতুন সরকার গঠিত হলে গাজা উপত্যকা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের চলাচল, জীবনযাপন এবং অন্যান্য বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
নির্বাচনের ফলাফল, সম্ভাব্য জোট এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করবে ভোটের চূড়ান্ত ফল ও পরবর্তী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।














