টঙ্গীতে মাদরাসার এক শিশুশিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে আলোচনায় আসা শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন বলে দাবি করলেও তিনি বাংলাদেশেই রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা পাল্টা মামলায় আইনি সুরক্ষা পেতে হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আইনজীবী এইচ এম রুহুল আমীন মোল্লা (হাসান) এ তথ্য জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আইনি পরামর্শ নেওয়ার জন্য সোমবার রাতে রুমি তাঁর চেম্বারে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। টঙ্গী পশ্চিম থানায় দায়ের করা মামলায় আগাম জামিন চেয়ে ইতোমধ্যে আবেদন করা হয়েছে। তবে শুনানির তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
এর আগে সোমবার রাতে সাংবাদিকদের কাছে রুমি দাবি করেছিলেন, তিনি আর দেশে নেই। তবে আইনজীবীর বক্তব্যে তাঁর বাংলাদেশে অবস্থানের তথ্য সামনে এসেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২১ অক্টোবর টঙ্গীর আউচপাড়ার ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদরাসায় সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগের খবর পেয়ে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিনকে মারধর করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই শিক্ষককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় রুমি বাদী হয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন। এরপর মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করা হয়। ওই মামলায় ১৭ লাখ টাকা চুরি, মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পাল্টা মামলার পর থেকে রুমির অবস্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি। একইভাবে শিশুটিকে ঘিরে মূল অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়াও আইন অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।













