বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য আঘাত মোকাবিলায় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। বুধবারের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানতে পারে—এমন পূর্বাভাসের পর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) মঙ্গলবার প্রকাশিত পূর্বাভাসে জানিয়েছে, ‘অর্ণব’ নামের ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে পৌঁছানোর সময় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। তখন বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া বিভাগের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ঝড়ের প্রভাবে কাঁচা ও খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় এলাকায় বন্যা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগের খুঁটি উপড়ে পড়া এবং কৃষিজমির ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার তাঁর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি কয়েকটি জেলায় মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা ৪ হাজার ৭০০-এর বেশি অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সম্ভাব্য দুর্যোগের প্রভাব নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কাও। ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের কারণে দেশটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, অতিবৃষ্টির ফলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
কলম্বোর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় প্রায়ই উপকূলীয় জনপদে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উত্তর আটলান্টিকে এ ধরনের ঝড়কে হারিকেন এবং প্রশান্ত মহাসাগরের বিভিন্ন অঞ্চলে টাইফুন বলা হয়।
সূত্র: এএফপি ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।












