রৌমারীতে গরু, ধানের চারা খাওয়াকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর, লুটপাট ও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৪ জন আহতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল ১৯ জুলাই শনিবার আনুমানিক রাত সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার রৌমারী সদর ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা ভুন্দরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রৌমারী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
আহতরা হলেন, নুরজাহান (৫০) আরফিনা আকতার (১৩) আলোরানী (২৬) ও বিবাদী পক্ষের বিউটি বেগম (৩৫)। এদের মধ্যে নুরজাহান ও আরফিনা খাতুন রৌমারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ভুন্দরচর গ্রামের অভিযোগের বাদী শাহজাহান আলী, সোলেমান ও বিবাদী ফজলে করিম, ফজলে রহিম ও রব্বানিদের মধে দীর্ঘদিনের পারিবারিকভাবে মনোমালিন্নতা চলছিল। শনিবার সন্ধার দিকে রব্বানির ছেলে রাজু আহমেদের গরু শাহাজামালের ধানের চারা খাইতে ছিল। এমতাবস্থায় জমির মালিক শাহজামালের লোকজন গরুটি ধরে এনে বাড়িতে বেধে রাখে। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে একটি সংঘর্ষ ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
এবিষয়ে শাহজামাল ও সোলেমান বলেন, বিবাদী পক্ষ দীর্ঘদিন থেকে আমাদের সাথে জমাজমি নিয়ে মনোমালিন্নতা চলে আসছে। আমার জমিতে আমন ধানের চারা রোপন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধার পরে রাজুর গরু, চারা খাইতে ছিল। পরে গরুটি ধরে এনে বাড়িতে বেধে রাখা হয়। বিবাদীগন গরু ধরে আনার কথা জানতে পেরে নিতে আসে। পরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বিবাদীর বাড়িতে খবর দিলে পুরুষ মহিলার ২৫/৩০ জনের একটি দল বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে এসে এ্যালোপাতারিভাবে মারডাং শুরু করে এবং বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এতে আমার বাক্সে থাকা ২ ভরি স্বর্ণ ও ৬ লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা। যাহার আনুমানিক মুল্য সাড়ে ৯ লক্ষ টাকা। এবিষয়ে রৌমারী থানায় নুরজাহান বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বিবাদী পক্ষ ফজলে রহিম ও নজরুল ইসলাম বলেন, শাহজামালদের সাথে আমাদের পারিবারিকভাবে দীর্ঘদিন থেকে বনিবনতা নেই। রেশারেশি করে জোরপুর্বক তারা আমাদের সাথে ঝগড়া বিবাদ করে চলছে। গতরাত গরু দিয়ে ধানের চারা খাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের বাড়িতে লুটপাট, ভাঙচুর ও মারামারির ঘটনাটি মিথ্যা। তারাই আমাদের বাড়িতে এসে ভাঙচুর ও মারামারি করে গেছে। আমাদের বাড়িতে লোকজন না থাকায় রাজুর স্ত্রী বিউটি বেগমকে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে ডান পায়ের উরুর উপরে লেগে জখম হয়ে যায়। বিউটি বেগম গুরুতর আহত হয়েছে।
রৌমারী থানা অফিসার ইনচার্জ লুৎফর রহমান বলেন, ভুন্দরচর গ্রামে শাহজামাল ও ফজলে রহিম গংদের সাথে সংঘর্ষ, বাড়ি ভাঙচুর ও লুপাটের ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।











