উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও জেলা ও জেলার বাইরে থেকে আগত অন্তত ৮০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে উৎসবে অংশ নেয়। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নানা সম্প্রদায়ের মানুষের সমাগমে পুরো এলাকা পরিণত হয় মিলনমেলায়। বাদ্যের তালে তালে কলসের ওপর দাঁড়িয়ে আদিবাসী মেয়েদের নৃত্য দর্শকদের মধ্যে ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয় আয়োজন।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ পত্নীতলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুবোধ উড়াওয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলীমুজ্জামান মিলন।
আয়োজকদের মতে, কারাম একটি পবিত্র গাছ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কাছে এটি মঙ্গলের প্রতীক। বংশানুক্রমে ভাদ্র মাসের পূর্ণিমায় পূজা উপলক্ষে এই উৎসব পালন করা হয়। পূজার সময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ধর্মগুরু সহোদর দুই ভাই ধর্মা ও কর্মার জীবনী পাঠ করেন। তাদের বিশ্বাস—ধর্ম পালন করায় ধর্মা বিপদ থেকে রক্ষা করেন, আর কর্মা ক্ষতির কারণ হন।
প্রথা অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের প্রথম পূর্ণিমায় উপবাস থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজন কারাম গাছের ডাল কেটে আনেন। সন্ধ্যায় পূর্ণিমা শুরু হলে সেই ডাল অস্থায়ী মণ্ডপে পুঁতে পূজা-অর্চনা, নৃত্য-সঙ্গীত ও কিচ্ছা বলার মধ্য দিয়ে প্রতি বছর জাঁকজমকপূর্ণভাবে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
সুবোধ উড়াও বলেন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি সারা দেশে নৃ-তাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর ওপর অত্যাচার, উচ্ছেদ, নির্যাতন বন্ধ এবং তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতেই নওগাঁয় এই আয়োজন বড় পরিসরে করা হয়।’ তিনি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপ নেয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।











