বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এর আয়োজনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) কর্তৃক আগামী রবি মৌসুমে (২০২৫-২৬) দেশের ২৫টি জেলায় আলুর প্রদর্শনীতে ‘খামারি’ মোবাইল অ্যাপভিত্তিক সার সুপারিশ অনুসরণপূর্বক প্রদর্শনী স্থাপন পরিকল্পনার লক্ষ্যে একটি পর্যালোচনা সভা আজ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার বিএআরসি’র সভাকক্ষ-১ এ অনুষ্ঠিত হয়। কেজিএফ এর অর্থায়নে বিএআরসি কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ক্রপ জোনিং প্রকল্পের উদ্যোগে এ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজমুন নাহার করিম। সভায় ডিএই-র সরেজমিন উইং এর পরিচালক মোঃ ওবায়দুর রহমান মন্ডল, বিএআরসি’র সদস্য পরিচালক (শস্য) ও ক্রপ জোনিং প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর ড. মোঃ আবদুছ ছালাম, ডিএই-র সরেজমিন উইং এর অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. মোঃ জামাল উদ্দীন, বিএআরসি’র কম্পিউটার ও জিআইএস ইউনিটের পরিচালক এবং ক্রপ জোনিং প্রকল্পের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর হাসান মোঃ হামিদুর রহমান, ক্রপ জোনিং প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার জনাব মোঃ আবিদ হোসেন চৌধুরী, ক্রপ জোনিং প্রকল্পের ক্রপ এক্সপার্ট ড. মোঃ আজিজ জিলানী চৌধুরী, ক্রপ জোনিং প্রকল্পের সয়েল এক্সপার্ট জনাব মোঃ ছাব্বির হোসেন, ডিএই’র ২৫টি জেলার উপ-পরিচালক, ডিএই, বিএআরসি ও ক্রপ জোনিং প্রকল্পের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পর্যালোচনা সভায় ডিএই-র সরেজমিন উইং এর পরিচালক মোঃ ওবায়দুর রহমান মন্ডল জানান, চলতি আমন মৌসুমে সারা দেশের ৪৭৫টি উপজেলায় ‘খামারি’ মোবাইল অ্যাপসের সার সুপারিশ অনুসরণ করে ক্লাস্টার পদ্ধতিতে ৭২,০৪৭ জন কৃষকের মোট ১৬,১৭১ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ করা হয়। ‘খামারি’ মোবাইল অ্যাপস ব্যবহারের ফলে মোট ২,২৮৪ মেট্রিক টন রাসায়নিক সার সাশ্রয় হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া ৭৭০ মে.টন, ডিএপি ৯৬৮ মে.টন এবং এমওপি ৫৪৬ মে.টন। তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর রাসায়নিক সারে সরকারকে বিপুল পরিমাণ টাকা ভর্তুকি প্রদান করতে হয়। আমরা যদি রাসায়নিক সারের ব্যবহার ২০-২৫% কমাতে পারি তাহলে প্রতিবছর শুধু ধান চাষে প্রায় চার থেকে পাঁচ কোটি টাকা ভর্তুকি সাশ্রয় করা সম্ভব। আমরা যদি আগামী রবি মৌসুমে আলু ও বোরো চাষে ‘খামারি’ মোবাইল অ্যাপসের সার সুপারিশ অনুসরণ করতে পারি তাহলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার আরও বেশি কমানো সম্ভব হবে। এতে যেমন ফসল উৎপাদনে কৃষকের খরচ কমবে তেমনি দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিএআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজমুন নাহার করিম বলেন, ‘খামারি’ মোবাইল অ্যাপভিত্তিক পরিমিত সার ব্যবহারে সারবাবদ অতিরিক্ত খরচ কমিয়ে কৃষকদের যেমন লাভবান করা সম্ভব তেমনি মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষা পাবে। মাঠ পর্যায়ে ‘খামারি’ মোবাইল অ্যাপের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় জানানো হয়, গত বছর দেশের যে ২৫টি জেলায় সর্বোচ্চ আলু উৎপাদন হয়েছে সেসব জেলায় এ বছর বিভিন্ন ব্লকে ক্লাস্টার পদ্ধিতিতে ‘খামারি’ মোবাইল অ্যাপভিত্তিক সার সুপারিশ অনুসরণপূর্বক আলু উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হবে। সভায় আলু চাষে খামারি মোবাইল অ্যাপ অনুযায়ী সার সুপারিশ এর কার্যকারিতা যাচাই ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। যেখানে দেখা যায়, খামারি মোবাইল অ্যাপসের সার সুপারিশ অনুসরণ করায় সার সাশ্রয় ও আলুর ফলন বৃদ্ধির ফলে হেক্টর প্রতি প্রায় ১৭ হাজার টাকা অতিরিক্ত লাভ করা সম্ভব।











