কুড়িগ্ৰামের রাজিবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের টাঙ্গালিয়াপাড়া খাজার ঘাটে মাত্র ১০০ মিটার নদীর এর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের ওপরের কাঠের ব্রিজটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ব্রিজের মাঝখানে কাঠ পচে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে তার ফলে ব্রিজ দিয়ে চলাচল একদমই বন্ধ হয়ে গেছে। ব্রিজ দিয়ে চলাচল না করার কারনে ব্রিজের নিজ দিয়ে অন্যের জমি দখল করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজার হাজার মানুষ। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটছে স্থানীয়দের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের বেশিরভাগ তক্তা পচে গেছে এবং অনেক জায়গায় খুঁটি আলগা হয়ে হেলে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, এই ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন শত শত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক এবং সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। ব্রিজের এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে বর্তমানে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি: জরাজীর্ণ ব্রিজের কারণে কোমলমতি শিশুরা স্কুলে যেতে ভয় পায়।
চিকিৎসা সেবা ব্যাহত: রোগী বা গর্ভবতী মহিলাদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনো ভ্যান বা অ্যাম্বুলেন্স গ্রামের ভেতর ঢুকতে পারছে না।
অর্থনৈতিক ক্ষতি: কৃষিপণ্য বাজারে নিতে কৃষকদের কয়েক মাইল ঘুরে অন্য পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা খরচ ও সময় দুটোই বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমরা আমাদের জনপ্রতিনিধিদের কাছে এই ব্রিজটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছি। নির্বাচনের সময় সবাই প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু ভোট গেলে আর কারও খোঁজ থাকে না। আমরা এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছি।”
আরেকজন শিক্ষার্থী জানান, ব্রিজটির নিচ দিয়ে যে রাস্তাটি আছে বৃষ্টির সময় সেটি পিচ্ছিল হয়ে যায়। মানুষ পর্যন্ত চলাচল করতে পারে না। আমরা এখানে একটি স্থায়ী কংক্রিটের ব্রিজ চাই।”
স্থানীয় কয়েকজন বলেন , যে আমরা শুনলাম ব্রিজ মেরামতের জন্য এমপি সাহেব বাজেট দিয়েছে এবং কি ব্রিজ মেরামতের টেন্ডার ও হয়েছে তাহলে কাজ করে না কেন। আর কিছু দিন পর বন্যার পানি চলে আসবে এখান তো ব্রিজের নিচে কোন পানি নেই ।
স্থানীয়দের দাবি, ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার বা সেখানে একটি নতুন পাকা সেতু নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে যদি কোনো প্রাণহানি ঘটে, তবে তার দায়ভার কে নেবে—এমন প্রশ্নই এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে যেন দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী করা হয়।










