পটুয়াখালীর বাউফলে ইঞ্জিনিয়ার খান মোঃ নওতাজ-এর তিনতলা ভবনে হামলা, ভাঙচুর, চুরি ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিন কিশোর কে (কিশোর সন্ত্রাস) সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে বড়দের শেল্টারে কতিপয় কিশোর গুলো (কিশোর সন্ত্রাস) ইঞ্জিনিয়ার খান মোঃ নওতাজ-এর বাসভবনে সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা বাড়ির দরজা-জানালার কাচ ভেঙে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এবং হামলা, ভাংচুর লুটপাট সহ বিভিন্ন অপকর্মের সিসি টিভির ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বাসার আঙিনায় থাকা একটি পালসার এনএস ১৬০ সিসি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এবং দুটি সিসি ক্যামেরা চুরি করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি তারা বাড়ির মালিককে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় আরিফ সিকদারসহ আরও ৫ জন কিশোর গ্যাং সদস্য এবং অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জনকে আসামি করে বাউফল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বাউফল থানার জি.আর নং-২৮০, তারিখ ১১/০৬/২০২৬ ইং। মামলার পর আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, পটুয়াখালীর বিচারক নিলুফার শিরিন তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। আদালত তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তারা হলেন—১) রিফাত (পিতা: সাইদুল সিকদার), ২) মাহিম (পিতা: মোঃ জহির), ৩) আলফা (পিতা: মোঃ আরিফ সিকদার)। তাদের কে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছেন, “কিশোর গ্যাং যে দলেরই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ফৌজদারি ও সংবেদনশীল ঘটনায় স্থানীয় কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা উচিত। এতে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতই মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান। তাই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশে নিরপেক্ষ তদন্ত, সঠিক সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, রাজনৈতিক নেতাদের উচিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল অবস্থান গ্রহণ করা এবং কোনোভাবেই তদন্ত বা বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব না ফেলা। এতে অপরাধীরা রাজনৈতিক আশ্রয় বা প্রভাব ব্যবহার করে পার পাওয়ার সুযোগ পাবে না।
সবশেষে তারা বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশ বজায় থাকলেই কেবল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব এবং সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পায়। (১৬/০৬/২০২৬)












