টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার যমুনা নদীসংলগ্ন দুর্গম চরাঞ্চলে চাঁদাবাজি, ডাকাতি, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র চক্রের বিরুদ্ধে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভুক্তভোগী নৌপথে চলাচল কারীদের অভিযোগ, টাঙ্গাইল সদর,কালিহাতী,সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলার বিস্তীর্ণ নৌপথে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র সক্রিয় থাকায় সাধারণ মানুষ, জেলে ও নৌযানচালকদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী,চক্রটির নেতৃত্বে রয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠা আব্দুস সালাম (পিতা: ইব্রাহিম)।এছাড়া ইমরুল (পিতা: আবু শামা),আনার(পিতা:সবুর),বাপ্পী,নূর নবী (পিতা: সরোয়ার) ও হযরত (পিতা: আব্দুল বাছেদ) নামে কয়েকজন তার সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত। তাঁদের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার আলীপুর গ্রামে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের হাতে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে,যমুনার নৌপথে চলাচলকারী বিভিন্ন নৌযান থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়,ডাকাতি,মারধর, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে চক্রটি জড়িত রয়েছে বলে জানা যায়।এ কারণে নদীপথে চলাচলকারী যাত্রী,জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানান এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ,রাতের অন্ধকারে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চর পুংলী, পানাকুড়া,কাকুয়া, গোয়লা হোসেন, আর গোয়লা, দীপু গোয়ালা,জিদাও, ডেইকা বাড়ি,কান্দিপাড়া ও কালীবাটিন মৌজার মধ্যবর্তী এলাকাসহ গোয়লা হোসেন ও জিদাওয়ের মাঝামাঝি নদী অংশে সশস্ত্র পাহারায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
এছাড়া সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার মেহেরনগর, চরবেল,খিদ্রচাপড়ি,রানদানপুর, বারবালা,সেটেল চর ও মহেশপুর এলাকাতেও একই চক্রের চাঁদাবাজি, ডাকাতি,অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ পরিস্থিতিতে যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা না হলে নদীপথে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল আরও ব্যাহত হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টাঙ্গাইল রিজিওনাল নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার সোহেল মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো অবগত নই। তবে অভিযোগের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অন্যদিকে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,”বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। যেহেতু আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম,সংশ্লিষ্টদের দিয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধ দমনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী। যমুনায় কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কাউকেই করতে দেওয়া হবে না।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা,অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং যমুনার নৌপথে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সচেতন মহল আশা করেন।














