অনেকটা নিয়মের বাইরে গিয়ে এস আলম গ্রুপের তত্ত্বাবধানে থাকার সময় কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়োগ দিয়েছিল তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ। যা এখন এসে ভোগান্তিতে পড়েছে চাকরি হারিয়ে অনেক কর্মকর্তা। বলছি ইসলামী ব্যাংক পি এল সি বাংলাদেশ এর কথা। গত ২৭ সেপ্টেম্বর একটি মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করেছিল ইসলামী ব্যাংক পি এল সি কর্তৃপক্ষ। এটি ছিল মূলত ব্যাংকের কর্মরত কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন করার পরীক্ষা। যারা এ পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করবে তাদের চাকরি টিকে যাবে ব্যাংকে। এখন প্রশ্ন হল এই পরীক্ষাটা কি গণচাটায়ের জন্য আয়োজন করেছে কর্তৃপক্ষ। ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেন এস আলম গ্রুপ ব্যাংকিং সেক্টরের নিয়মের বাইরে গিয়ে কোন প্রকারের পরীক্ষা ছাড়াই অনেক কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছিল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি তে। সে সময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল্যায়ন করার উদ্দেশ্যেই গত ২৭ সেপ্টেম্বর এ মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। প্রায় ৫ হাজারেরও অধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এ মূল্যায়ন পরীক্ষা অংশগ্রহণ করার কথা ছিল কিন্তু ফেল হবে এই ভয়ের কারণে অধিকাংশ কর্মকর্তা বা অফিসার মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। যারা অবৈধভাবে এই নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছিল তাদের মূলত মেধার কমতি থাকায় এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি এটা মোটামুটি নিশ্চিত। তাদের ভয় ছিল যদি মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার পরেও ফেল করে তাহলে তাদের চাকরি চলে যাবে। কিন্তু মূল্যায়ন পরীক্ষা অংশগ্রহণ না করার কারণে সাথে সাথে এসব কর্মকর্তা বা অফিসারদের আইডি লক করে দেয়া হয় এতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা অফিসারদের চাকরি সরাসরি চলে না গেলেও তারা ব্যাংকের কোন শাখায় দায়িত্ব পালন করতে পারবে না এ ধরনের একটি নির্দেশনা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দিয়েছে।
সূত্র জানায় ইসলামী ব্যাংক পি এল সি এস আলম গ্রুপের পরিচালনায় থাকাকালীন সময়ে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দাদের যোগ্যতা না থাকলেও শুধু সার্টিফিকেটের কারণে ব্যাংকে নিয়োগের সুযোগ করে দেয় এস আলম গ্রুপ। একপ্রকার অনেক নিয়োগপ্রাপ্ত অফিসার পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি ব্যাংকে যোগদান করারও অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ প্রাপ্ত অফিসাররা মেধা তালিকায় না থাকার কারণে ব্যাংকের কাজে যেমন মনোযোগী হতে পারেনি। মেধাবী না হওয়ার কারণে অনেকেই প্রশিক্ষণে অংশ নেয়ার পরেও সঠিক ব্যাংকিং সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে ইসলামী ব্যাংক পি এল সি এর পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন হওয়ার পর থেকে কর্মরত অফিসারদের মূল্যায়ন পরীক্ষা নাই আর গুঞ্জন অনেক আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল অবশেষে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মূল্যায়ন পরীক্ষায় অনুষ্ঠিত হলে এতে তালিকাভুক্ত অফিসাররা অংশগ্রহণ করে নাই যার ফল হিসেবে তাদের আইডি প্রধান কার্যালয় থেকে লক করা হয়েছে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা তালিকাভুক্তদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অফিসিয়াল নির্দেশনার অপেক্ষায় আছে শাখা প্রধানরা। ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় প্রয়োজনের চাইতে অতিরিক্ত অফিসার নিয়োগ দিয়েছিল তৎকালীন এস আলম গ্রুপ এইতো অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে ব্যাংক থেকে।
যদিও চাকরি চলে যাওয়া অফিসারদের পরিবার এখন সংকটে পড়ে যাবে তারপরেও অর্থনৈতিক সমস্যার কথা চিন্তা করলে ব্যাংক থেকে কিছু অফিসার ছাটাই না করলেও হয় না সে চিন্তা করেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মূল্যায়নের কৌশল অবলম্বন করে পরীক্ষার মাধ্যমে অফিসারদের তাদের পদবী থেকে সরিয়ে দেয়ার কৌশলটা চালিয়েছে বলে মনে হয়। বিশ্বের অনেক বড় বড় ব্যাংকের সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামী ব্যাংক পি এল সি বাংলাদেশের সেরা ব্যাংক হয়ে উঠেছে অনেক বছর আগেই কিন্তু এস আলম কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে ইসলামী ব্যাংক পি এল সি কে তাদের গ্রুপে যুক্ত করার পর থেকেই ইসলামী ব্যাংক মোটামুটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল সেখান থেকে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে ইসলামী ব্যাংক পি এল সি তাদের কর্মকান্ডের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর মূল্যায়ন পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনা করলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রায় ৮৮ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে তার মানে যারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি তারা এই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেনি। মেধার মূল্যায়ন করার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করেছিল কিন্তু অফিসার সেটা বুঝতে না পেরে ভয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন যা তাদের জন্য ছিল চরম ভুল। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরীক্ষায় না করার কারণে ওএসডি করেছে যারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। মূলত তারা বেতন ভাতা পেলেও কোন প্রকারের দায়িত্ব পালন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।











