মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়ন এলাকায় যমুনা নদী থেকে প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন অন্তত পাঁচটি ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করে আসছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় ও স্থানীয়র তথ্যমতে একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ তাদের।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, বাঘুটিয়া বাজার এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার নিকটবর্তী নদী অংশে পাঁচটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মোস্তাফিজুর রহমান প্রিন্স নামে এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা এ কার্যক্রমের নেপথ্যে রয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভাঙন ও জননিরাপত্তা ঝুঁকি এলাকাবাসীর ভাষ্য, অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ও তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যা নদীভাঙন ত্বরান্বিত করছে। কয়েক হাজার বসতবাড়ি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। পূর্ববর্তী বর্ষা মৌসুমে বহু পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে বলেও তারা জানান।
এদিকে, শিবালয় উপজেলা অংশে যমুনা নদীর ওপর দিয়ে অতিক্রান্ত জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের পিলারসংলগ্ন এলাকাতেও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা—জাতীয় গ্রিডের পিলার—কাঠামোগত ঝুঁকিতে পড়তে পারে, যা জননিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত।
আইনি দৃষ্টিকোণ অনুমোদন ছাড়া নদী থেকে বালু উত্তোলন ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনে অবৈধ উত্তোলন, পরিবহন বা মজুদের ক্ষেত্রে অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড এবং ব্যবহৃত ড্রেজারসহ সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম জব্দের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি সাধিত হলে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। জনস্বার্থে প্রশাসন চাইলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে।
প্রশাসনের বক্তব্য,অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরেন বলেন, “বিষয়টি দেখা হচ্ছে।” তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অভিযান, ড্রেজার জব্দ বা মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি,এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ ড্রেজার জব্দ, দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু এবং নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, প্রশাসনের নীরবতা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।













