মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের যমুনা নদীবেষ্টিত দুর্গম আলোকদিয়া চর এলাকায় সংঘটিত আলোচিত মিরাজ হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় সশস্ত্র মহড়া, গুলিবর্ষণ ও বাল্কহেড জিম্মি করে রাখার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত (৩ এপ্রিল শুক্রবার) আলোকদিয়া চরে মিরাজ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও,পরে কাওছার আলম নামের এক ব্যক্তির দায়ের করা ৬ জনের নাম উল্লেখ করা এজাহারকে নিয়মিত হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ। এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, নিহতের ছেলের লিখিত অভিযোগ আমলে না নিয়ে অন্য একটি এজাহার গ্রহণ করায় মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিকের অনুসন্ধানে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর নাম সামনে আসে বলে দাবি করা হয়েছে। এর পর থেকেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্নভাবে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,গত ১০ মে যমুনা নদীপথে আলোকদিয়া চর এলাকায় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি নৌপথে মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও ফাঁকা গুলিবর্ষণের মাধ্যমে এলাকায় ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা চালায়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, কারা গুলি ছুড়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো প্রত্যক্ষদর্শী তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় কিছু গণমাধ্যম যাচাই-বাছাই ছাড়াই একপক্ষের নাম প্রকাশ করায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি,মিরাজ হত্যাকাণ্ডের পর গত ১৭ ও ১৮ এপ্রিলও যমুনা নদীপথে কয়েকটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র সশস্ত্র মহড়া চালায়। এ সময় তারা বিভিন্ন নৌযান আটকে চাঁদাবাজির অভিযোগে জড়িত ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীতে বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-কে অবহিত করা হলে পাটুরিয়া কোস্ট গার্ড অভিযান পরিচালনা করে নদীপথ স্বাভাবিক করে বলে জানা গেছে। সর্বশেষ (গত ১০ মে )আলোকদিয়া চর এলাকায় সিরাজগঞ্জ বালুমহালের অর্ধশতাধিক বাল্কহেড সশস্ত্র পাহারায় আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে বাল্কহেড মালিকপক্ষ বিষয়টি মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মহরম আলিকে জানালে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ-এর শিবালয় থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্কহেডগুলোকে মুক্ত করে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(অপরাধ) মহরম আলি গণমাধ্যমকে জানান,“বালুমহালকে কেন্দ্র করে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আমরা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। এদিকে,স্থানীয় সচেতন মহল মিরাজ হত্যা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং যমুনা চরাঞ্চলে সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।











