মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের তিশোরি মৌজা সংলগ্ন যমুনা নদীতে জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ারের পাশ থেকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোসহ নদী তীরবর্তী কয়েক শতাধিক বসতবাড়ি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ নম্বর টাওয়ারের সংলগ্ন নদীতে দুটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার বসিয়ে অবিরাম বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ড্রেজার থেকে উত্তোলিত বালু শতাধিক বাল্কহেডে লোড করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানা যায়।
এ সময় ঘটনাস্থলে কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে পাহারায় থাকতে দেখা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সশস্ত্র পাহারায় থাকা যুবকরা মোস্তাফিজুর রহমান প্রিন্স ও সফিক নামে দুই ব্যক্তির অনুসারী। তাদের নির্দেশেই ওই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, জাতীয় গ্রিডের টাওয়ারের এত কাছে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে টাওয়ারের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার পাশাপাশি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে আশপাশের জনবসতিও।
প্রসঙ্গত, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছ থেকে বালু উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের ৬ ও ১৫ ধারায় এসব স্থানের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এছাড়া নদীর তীর সংরক্ষণ ও জননিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতও এ ধরনের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। কেউ আইন অমান্য করে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।













