সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় আগাম পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন মুসল্লিরা।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল থেকে দেশের নানা প্রান্তে পৃথক পৃথক স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সবচেয়ে বড় পরিসরে ঈদ উদযাপন হয়েছে মাদারীপুর, শরীয়তপুর, চাঁদপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলায়। মাদারীপুরে ২৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এবং শরীয়তপুরের সুরেশ্বর দরবার শরীফ কেন্দ্রিক ৩০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। চাঁদপুরে অর্ধশতাধিক গ্রামে এবং বরগুনা, রাজশাহী, লক্ষ্মীপুর, সাতক্ষীরা, নওগাঁ, কুড়িগ্রাম বগুড়া, দিনাজপুর ও পটুয়াখালীতেও হাজারো মানুষ আগাম ঈদ উদযাপন করেন।
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন।
দরবার শরীফের অনুসারীরা হানাফি মাজহাব মতে, বিশ্বের যে কোন দেশে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে প্রায় দুইশত বছর ধরে এভাবে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং চন্দ্র মাসের সাথে সম্পৃক্ত সকল অনুশাসনসমূহ পালন করে আসছে।
দরবারের তথ্যমতে, মির্জাখীল দরবার শরীফের খানকাহ মাঠে ঈদের প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। হজরত শাহ জাহাঁগীর শেখুল আরেফীন (ক.), হজরত শাহ জাহাঁগীর ফখরুল আরেফীন (ক.), হজরত শাহ জাহাঁগীর শমসুল আরেফীন (ক.) এবং হজরত শাহ জাহাঁগীর তাজুল আরেফীন (ক.) এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে বর্তমান সাজ্জাদানশীন হজরত ইমামুল আরেফীন ড. মৌলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান ঈদের নামাজে ইমামতি করেন।

রাজশাহী : রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় সকাল ৮টায় উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায়, কৃষ্ণপুর গ্রামের মুসলিম জামে মসজিদের দোতলা ছাদে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রায় ২৩ জন মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। মুসলিম জামে মসজিদের ইমাম আব্দুর রহিম গাজি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, নতুন চাঁদ দেখে রোজা রাখতে ও ঈদ উদযাপন করতে। সেই অনুসারেই আমরা ঈদ উদযাপন করছি।’

হিলি : সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দিনাজপুরের বিরামপুরে দুটি ইউনিয়নের প্রায় ১৫ গ্রামের মানুষ পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগাম নামাজ আদায় করেছেন। ঈদের জামাতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নেন। সকাল ৮টায় উপজেলার বিনাইল ইউনিয়নের আয়ড়া মাদরাসা মাঠ ও খয়েরবাড়ি-মির্জাপুরে দুটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আয়ড়া মাদরাসা মাঠে জামাতের ইমামতি করেন আল আমিন এবং খয়ের বাড়িতে দোলোয়ার হোসেন ইমামতি করেন। বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ঈদের জামাতকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুটি জামায়াতের দুই শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন।

ঝালকাঠি : ঝালকাঠির রাজাপুরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সোয়া ৮টায় উপজেলার ডহরশংকর এলাকার দারুস-সুন্নাহ ঈদগাহ মাঠে এ নামাজ আদায় করা হয়। জামাতে প্রায় দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরা আলাদা তাবুর ভেতর থেকে একই জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন। ঈদগাহ মাঠের ইমাম ও খতিব মাওলানা আমিনুর ইসলাম বলেন, আমরা চাঁদ দেখার সংবাদ পেয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছি।

পঞ্চগড় : পঞ্চগড়ে ১২ জন মুসুল্লি নিয়ে বাড়ির ছাদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৯.৩০টায় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নে কামারপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল্লাহর বাড়ির ছাদে এ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত আট বছর আগে ২০১৮ সাল থেকে কামারপাড়া গ্রামের আব্দুল্লাহ সহ কয়েকটি পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেন।

মাদারীপুর : মাদারীপুর জেলার ২৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আগাম পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের চর কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক। জানা যায়, সুরেশ্বর দরবার শরীফের অনুসারীরা প্রায় দেড়শ বছর ধরে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং সার্বিক পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল।
শরীয়তপুর : শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরীফকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় দরবার শরীফের ঈদগাহ মাঠে পৃথকভাবে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন শাহ সুফি সৈয়দ বেলাল নূরী আল সুরেশ্বরী ও মাওলানা জুলহাস উদ্দিন। প্রায় ৩০টি গ্রামের ২০ হাজার মুসল্লি এতে অংশ নেন। ১৯২৮ সাল থেকে এ প্রথা চালু রয়েছে বলে জানা যায়। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
ঝিনাইদহ : হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় সকাল সাড়ে ৮টায় দুলদুলের চাতালে অনুষ্ঠিত জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা হাবিবুল্লাহ। আয়োজকরা জানান, ২০০৫ সাল থেকে তারা এভাবে ঈদ পালন করে আসছেন। এ বছর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৭০ জন মুসল্লি অংশ নেন। মুসল্লিরা মনে করেন, বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে সেই হিসাবেই ঈদ পালন করা উচিত। নামাজ শেষে দোয়া ও কোলাকুলির মাধ্যমে ঈদ উদযাপন করা হয়।
নওগাঁ : পত্নীতলা উপজেলা সকাল ৮টায় নজিপুর পৌরসভার কলোনিপাড়া গ্রামে এ জামাত হয়। এতে প্রায় ৬০-৭০ জন মুসল্লি অংশ নেন। ইমামতি করেন মাওলানা কামারুজ্জামান। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই নিয়মে ঈদ পালন করে আসছেন এবং এটিকে তারা ধর্মীয় দায়িত্ব মনে করেন
বগুড়া : বগুড়ার গাবতলী, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলায় পৃথক স্থানে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত এসব জামাতে নারী-শিশুসহ দেড় শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। গাবতলী রেলস্টেশন সংলগ্ন মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছু মুসল্লি ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে আগাম ঈদ পালন করেন। পুলিশ জানায়, সব অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের পাঁচ উপজেলার ৬টি গ্রামে সহস্রাধিক মুসল্লি সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। শুক্রবার সকাল ৯টায় বিভিন্ন স্থানে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মুসল্লিরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতাদর্শ অনুসরণ করে একই দিনে রোজা ও ঈদ পালন করেন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হয় এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত জামাতে ১০০-২০০ জন মুসল্লি অংশ নেন। মুসল্লিরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়মে ঈদ পালন করে আসছেন এবং এটিকে ধর্মীয়ভাবে সঠিক মনে করেন।
নারায়ণগঞ্জ (সোনারগাঁ) : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ২৩টি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে পৃথক জামাতে মুসল্লিরা অংশ নেন। স্থানীয়দের মতে, প্রায় এক দশক ধরে তারা এই প্রথা অনুসরণ করছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করেন।
মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জ সদর ও সিরাজদিখান উপজেলার প্রায় ১৫টি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় আনন্দপুর গ্রামে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৭ হাজার মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয়রা জানান, তারা চাঁদ দেখার হিসাব অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালন করেন। নামাজ শেষে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।
ফেনী : ফেনীর সদর ও পরশুরাম উপজেলার তিনটি স্থানে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে কিছু মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। শুক্রবার সকালে পৃথক জামাতে এ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারে শতাধিক পরিবারের অংশগ্রহণে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৭টায় শহরের একটি বাসায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী-পুরুষ মুসল্লিরা অংশ নেন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়। আয়োজকরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়মে ঈদ পালন করে আসছেন।
ফরিদপুর : ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার ১২টি গ্রামের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। তিনটি পৃথক জামাতে সহস্রাধিক মুসল্লি অংশ নেন। স্থানীয়রা জানান, তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই প্রথা অনুসরণ করে আসছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরের ১১টি গ্রামে সহস্রাধিক মুসল্লি সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকালে রামগঞ্জে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঈমামতি করেন মাওলানা মুহাম্মদ রুহুল আমিন। এছাড়া পজেলার নোয়াগাঁও, জয়পুরা, বিঘা, বারোঘরিয়া, হোটাটিয়া, শরশৈই, কাঞ্চনপুর ও রায়পুর উপজেলার কলাকোপাসহ ১১টি গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ ঈদ আনন্দে মেতে উঠেছে। মুসল্লিরা জানান, তারা বহু বছর ধরে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন। নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার শশীনাড়া গ্রামে ৪০টি পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় স্থানীয় মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, ২০১২ সাল থেকে তারা এই প্রথা অনুসরণ করছেন। নামাজ শেষে দোয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।
শেরপুর : শেরপুরের ৭টি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে বিভিন্ন স্থানে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, এটি তাদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ। নামাজ শেষে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করা হয়।
পিরোজপুর : পিরোজপুরের তিন উপজেলার ১০টি গ্রামের প্রায় ৮০০ পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করেছে। বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, তারা বহু বছর ধরে এই প্রথা অনুসরণ করে আসছেন। নামাজ শেষে দোয়া করা হয়।
সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার প্রায় ২০-২৫টি গ্রামের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকাল ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মুসল্লিরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়মে ঈদ পালন করছেন। নামাজ শেষে দোয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।
বরগুনা : বরগুনার প্রায় অর্ধশত গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, এটি বহু বছরের প্রচলিত রীতি। নামাজ শেষে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ পালন করা হয়।

চাঁদপুর : চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। একাধিক জামাতে হাজারো মুসল্লি অংশ নেন। স্থানীয়রা জানান, সাদ্রা দরবার শরীফের অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই প্রথা অনুসরণ করছেন। নামাজ শেষে দোয়া করা হয়।
পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর ৩৫টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকাল ৯টায় বদরপুর দরবার শরীফে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই নিয়ম অনুসরণ করে আসছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
জামালপুর : সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে জামালপুরের সরিষাবাড়ী, ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জ উপজেলার ২০টি গ্রামে আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টায় সরিষাবাড়ীর বলারদিয়া মধ্যপাড়া মাস্টার বাড়ি জামে মসজিদ মাঠে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন আজিম উদ্দিন মাস্টার।
রংপুর : রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বাগপুর পূর্ব জলীপাড়া গ্রামে মুসল্লিরা সৌদি আরবের সঙ্গে রেখে অনুযায়ী ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। মাওলানা আব্দুল বাতেন ২০০ পরিবারকে নিয়ে জামাতে ইমামতি করেন। স্থানীয় ও আশপাশের গ্রাম থেকে প্রায় ৩০০ মুসল্লি এতে অংশ নেন।
গাইবান্ধা : গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ীর কয়েকটি গ্রামে মুসল্লিরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে অনুযায়ী ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পলাশবাড়ীর তালুক ঘোড়াবান্দায় ৩০-৪০ মুসল্লি, সাদুল্লাপুরের ভাতগ্রাম ইউনিয়নে শতাধিক মুসল্লি নামাজে অংশ নেন।













