জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ঘটনা ঘটেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘সত্যকে মিথ্যা বানাতে দক্ষ’ বলে কটাক্ষ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। অন্যদিকে, ‘মিথ্যা’ শব্দটিকে অসংসদীয় আখ্যা দিয়ে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে তা এক্সপাঞ্জ (বাদ দেওয়া) করার দাবি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সপ্তম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এ ঘটনা ঘটে। এদিন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিতে দেখা যায়। অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আগের দিনের এক বক্তব্যের আপত্তি জানিয়ে বলেন, “আমার কালকে চলে যাওয়ার পরে আমাকে ভালোবেসে তিনি একটা কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন যে, আমি একটি অসত্য কথা এখানে বলে গেছি। আমি এটা জানতে পারলাম।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “আসলে আল্লাহ তায়ালা তাকে অপূর্ব দক্ষতা দিয়েছেন। জাস্ট বোতলটা পরিবর্তন করে মেটেরিয়ালসটা ঠিক রেখে তিনি সত্যকে মিথ্যা হিসেবে এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে চমৎকারভাবে পরিবেশন করতে পারেন। এজন্য শুধু তাকে ধন্যবাদ জানানোর জন্যই আমি এখানে দাঁড়িয়েছি।
এসময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, “বিরোধী দলের নেতা, আপনি পয়েন্ট অব অর্ডারে নিশ্চয়ই এ বক্তব্য রেখেছেন। পয়েন্ট অব অর্ডার চলমান বিষয়ের ওপর হয়। এটা তো গতকালকের বিষয়, গতকালকেই শেষ হয়ে গিয়েছে। সুতরাং এটা এখন আর নতুন করে তোলার কোনও প্রয়োজন নেই। মন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। উনি যদি হাউজে থেকে বলতেন তাহলে নিশ্চয়ই আপনাকে রাইট অব রিপ্লাই দিতাম।
এরপর স্পিকারের অনুমতিক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাব দেন। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা দুটি অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করেছেন, সেটা হচ্ছে ‘মিথ্যা’। উনি ‘অসত্য’ বললে আমি আপত্তি করতাম না। এই ‘মিথ্যা’ শব্দটা অসংসদীয় হিসেবে এক্সপাঞ্জ করার জন্য আমি অনুরোধ করছি।
আগের দিনের ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ওনার কালকের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমি বলেছিলাম বিরোধীদলীয় নেতা এখানে একটা অসত্য বক্তব্য উত্থাপন করেছেন। সেটা ছিল যে, যেখানে রুল ৬২ অনুসারে আপনি (স্পিকার) একজন বেসরকারি সদস্যের উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন ওনারা ওয়াকআউট করার আরও অনেক পরে। তাহলে সেটা পার্লামেন্টে উত্থাপিত বা পঠিত হলো কীভাবে? সুতরাং আমি বলেছি সেই বক্তব্যটা অসত্য।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দাবির প্রেক্ষিতে বিভ্রান্তি দূর করতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বিভ্রান্তিটা এখানে মাননীয় স্পিকার। একই বিষয়, একই প্রস্তাব একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এনেছিলেন। সেই প্রস্তাবটি ভিন্ন নামে গতকাল এসেছে। শুধু নাম বদল হয়েছে, প্রস্তাবটি ঠিক আছে। আমি তো আগেরটা জানতাম বলেই বলেছি। এখানে আমি কোনও ভুল তথ্য দিইনি।













