সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে পুলিশ এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।মাদকাসক্ত ছেলের অবর্ণনীয় অত্যাচার থেকে অবশেষে রেহাই পেলেন এক অসহায় মা ও তার পরিবার। বিরুলিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মোহাম্মদ আল আমীনের প্রচেষ্টায় সময়োচিত ও সংবেদনশীল হস্তক্ষেপে এই পরিবারটিতে দীর্ঘ দিনের অশান্তির অবসান ঘটবে।
স্থানীয় সূত্রে, জানা যায়,বিরুলিয়ার মৈস্তাপাড়া এলাকায় এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত হয়ে পরিবারের ওপর অত্যাচার চালিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে তার বৃদ্ধ মা-বাবার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। মাদক সেবনের টাকার জন্য ওই যুবক ঘরে প্রায়ই অশান্তি সৃষ্টি করতেন।
পরিবারের এই কঠিন সময়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় বিরুলিয়া পুলিশ ক্যাম্প। স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে ইনচার্জ এসআই আল আমীন মৈস্তাপাড়ায় যুবকটির বাড়িতে উপস্থিত হন। সাধারণত এ ধরণের ক্ষেত্রে আইনি কঠোরতা দেখা দিলেও, তিনি বিষয়টিকে মানবিক ও সংশোধনমূলক দৃষ্টিতে দেখেন।
যুবকটিকে আটকের পর তিনি এলাকাবাসী ও তার মা-বাবার সামনে দীর্ঘক্ষণ কাউন্সিলিং করেন। পুলিশের এই মানবিক আচরণে যুবকটি নিজের ভুল বুঝতে পেরে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি উপস্থিত সকলের সামনে এবং তার মা-বাবার কাছে জীবনে আর কখনো মাদক স্পর্শ করবেন না বলে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ছেলের এই অনুশোচনা এবং মা-বাবার আকুতিতে সাড়া দিয়ে এসআই আল আমীন তাকে আইনি জটিলতায় না ফেলে সংশোধনের শেষ সুযোগ হিসেবে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেন। বিরুলিয়ার ইতিহাসে পুলিশের এমন মানবিক ও মহানুভব আচরণ আগে কখনো দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন স্থানীয়রা।
ছেলের এমন পরিবর্তন ও পুলিশের উদারতায় কান্নায় ভেঙে পড়েন ভুক্তভোগী মা। তিনি বিরুলিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “পুলিশের এই মহানুভবতায় আমি শুধু আমার ছেলেকে ফিরে পাইনি, আমার পরিবারটি ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে গেল।”
এলাকাবাসীর মতে, পুলিশের এই ধরণের মানবিক ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম মাদক নির্মূলে জেল-হাজতের চেয়েও বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন।













