খন্দকার মোহাম্মাদ আলী
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার তামাই, মুকন্দগাঁতি, শেরনগর ও চালাসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে বসতবাড়িতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ডাইং কারখানা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কারখানা থেকে নির্গত কেমিক্যাল মিশ্রিত দূষিত পানি যত্রতত্র ফেলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাঁত কারখানার মালিকরা বসতবাড়ির মধ্যেই ডাইং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রতিদিন রং ও কেমিক্যালযুক্ত পানি পাইপের মাধ্যমে মাটির নিচে ফেলা হচ্ছে। ফলে ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত হয়ে টিউবওয়েলের পানিতেও বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি দেখা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, এসব দূষিত পানি ব্যবহার ও পান করার কারণে চর্মরোগ, পেটের সমস্যা, হৃদরোগ, কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। দরিদ্র পরিবারগুলোর পক্ষে বিশুদ্ধ পানি কিনে ব্যবহার করা সম্ভব না হওয়ায় বাধ্য হয়েই তারা দূষিত পানি ব্যবহার করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, বছরের পর বছর ধরে কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে ডাইং কারখানা পরিচালনা করছেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যকর তদারকি না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। পাশাপাশি ডাইং হাউজ মালিকদের একটি সিন্ডিকেট থাকায় ক্ষতিগ্রস্তরা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেও ভয় পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে উন্নয়ন অনুসন্ধান ফাউন্ডেশন–এর অনুসন্ধানী স্বেচ্ছাসেবীদের সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও নানা অনিয়মের চিত্র। তাদের তথ্যমতে, ডাইং কারখানার দূষিত বর্জ্য পানির কারণে উর্বর কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে, জলাধার দূষিত হচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
এছাড়া অধিকাংশ তাঁত কারখানায় বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় শব্দদূষণ, ফেব্রিক্সের ধুলাবালিতে বায়ুদূষণ এবং ডাইং হাউজের বিষাক্ত বর্জ্যে পানি দূষণ বাড়ছে। পরিবেশের এমন বিপর্যয়ের মধ্যেও দেশের তাঁত শিল্প টিকিয়ে রাখার স্বার্থে স্থানীয়রা নীরবে সব সহ্য করছেন বলে জানান সচেতন মহল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তামাই ও মুকন্দগাঁতি গ্রামের কয়েকটি ডাইং হাউজ রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি ও বাস্তব চিত্র নিয়ে পরবর্তী সময়ে আরও বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিকবার প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে স্থানীয়রা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।














