সর্বশেষ

জাতীয় গ্রিড সংলগ্ন অবৈধ বালু উত্তোলন: ঝুঁকিতে রাষ্ট্রীয় স্থাপনা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া চর এলাকায় যমুনা নদীতে জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন স্থানে ব্যাপকহারে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্রের লাগামহীন বালু উত্তোলনে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো, পাশাপাশি হুমকির মুখে রয়েছে কয়েক শতাধিক বসতবাড়ি ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, অভিযুক্ত চক্রটি একাধিক ড্রেজার ব্যবহার করে প্রতিদিন শতাধিক বাল্কহেড ভর্তি করে বালু উত্তোলন করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আ. রশিদ মাতবর ও আ. করিমের নেতৃত্বে পরিচালিত এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও কার্যকর তদারকির অভাবে বালুখেকো চক্রটি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গত ৩ এপ্রিল অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে একটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

বজ্রপাতে ৫ জেলায় প্রাণ গেল ১১ জনের

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী অনুমোদনহীন বালু উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ। একই সঙ্গে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী নদীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিশেষ করে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, সেতু বা প্রতিরক্ষা কাঠামোর নিকটবর্তী এলাকা থেকে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে তা শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ ড্রেজিংয়ের ফলে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক গঠন ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে নদীভাঙন ত্বরান্বিত হয়ে জাতীয় গ্রিডের টাওয়ারগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এর প্রভাব বিস্তার করলে বৃহত্তর বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার গণমাধ্যমকে জানান, “অবৈধ বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তবে স্থানীয়দের দাবি, দিনের পর দিন প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান উপস্থিতি না থাকায় তাদের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার অসামঞ্জস্য স্পষ্ট।

আশুলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

এদিকে, নৌপুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহল মনে করছে, সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পরও যদি অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না হয়, তবে তা দায়িত্ব পালনে অবহেলা কিংবা যোগসাজশের ইঙ্গিত বহন করতে পারে, যা আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনা, অবৈধ ড্রেজার জব্দ, দায়ীদের গ্রেপ্তার এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যথায়, যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা অবকাঠামোগত বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

শিবালয় বালু মহালের মিরাজ হত্যাকাণ্ডে আসামিদের আড়ালের চেষ্টা: নিহতের পরিবারের অভিযোগ

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বালু মহাল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মিরাজ হোসেন (৪০) হত্যাকান্ডের ঘটনার দুইদিন পরে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ হত্যা...

Read more

সর্বশেষ

ADVERTISEMENT

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত


সম্পাদক ও প্রকাশক : মাে:শফিকুল ইসলাম

কার্যালয় : ভাদাইল, ডিইপিজেড রোড, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা-১৩৪৯

যোগাযোগ: +৮৮০ ১৯১ ১৬৩ ০৮১০
ই-মেইল : dailyamaderkhobor2018@gmail.com

দৈনিক আমাদের খবর বাংলাদেশের একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে দৈনিক আমাদের খবর, অনলাইন নিউজ পোর্টালটি সব ধরনের খবর প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রচারিত অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলির মধ্যে এটি একটি।

ADVERTISEMENT