মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা আলোকদিয়ার চরসংলগ্ন যমুনা নদীর নৌপথে বালুবাহী বাল্কহেডের মাঝি-মাল্লাদের উপর সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলা ও জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী,স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র চক্র নিয়মিতভাবে নৌপথে চলাচলকারী বাল্কহেডগুলোকে অবরোধ করে প্রতি বাল্কহেড থেকে তিন হাজার টাকা হারে চাঁদা আদায় করছে এবং দাবিকৃত অর্থ প্রদান না করলে শারীরিক নির্যাতনসহ প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তেওতা আলোকদিয়ার চরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একাধিক অবৈধ বালু উত্তোলনকারী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীরা এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, উক্ত চক্র দীর্ঘদিন ধরে নৌপথে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে ও মাঝি-মাল্লাদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি, মারধরসহ দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটিত করছে।
হামলার শিকার কয়েকজন মাঝি-মাল্লারা জানান, গতকাল রাত থেকে আজ দুপুর প্রায় ১টার দিকে আলোকদিয়া চ্যানেলে একটি ট্রলারে করে এসে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এসময় তারা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন ও প্রত্যেক বাল্কহেড থেকে গড়ে তিন হাজার টাকা করে আদায় করা হয়।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, তারা বিষয়টি পাটুরিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করলেও তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রশ্ন উত্থাপন করে।
এ প্রসঙ্গে পাটুরিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ দণ্ডবিধি,১৮৬০ এর প্রাসঙ্গিক ধারাসমূহ (বিশেষত চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অবৈধভাবে জিম্মি করা এবং শারীরিক আঘাত সংক্রান্ত অপরাধ) অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একইসঙ্গে নৌপথে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং অবৈধভাবে অর্থ আদায় করা নৌ-পরিবহন আইনেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অভিযুক্তদের সনাক্ত করে গ্রেফতার ও নৌপথে নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।











