সংসদ সদস্যদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ির না নেয়ার কথা থাকলেও উপজেলায় সংসদ সদস্যদের অফিস পাওয়ার খবর পেয়ে চলাচলের জন্য একটি গাড়িও চেয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সাংসদ মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ)। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় দাঁড়িয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ এ দাবি করেন সংসদে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
হাসনাত আবদুল্লাহর এই গাড়ি চাওয়ার প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। যদিও জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহারে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি না নেয়ার প্রতিশ্রুতি ছিলো।
সংসদ সদস্যদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার প্রতিটি উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় তলায় একটি সুসজ্জিত অফিস কক্ষ (বাথরুমসহ) স্থাপনের একটি প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের সুখবর দিতে আমি এখন দাঁড়িয়েছি। আজকে সরকারের পক্ষ থেকে আমার কাছে একটি জিও (গভর্নমেন্ট অর্ডার) এসেছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রত্যেক এমপির (সংসদ সদস্য) বসার জন্য প্রতিটি উপজেলা পরিষদে একটি করে অফিসকক্ষ নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছেন। অতিদ্রুত আমরা এ কাজ শুরু করবো।
এসময় সংসদে দাঁড়িয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অপজিশন থেকে আপনাদের সবাইকে থ্যাঙ্ক ইউ জানাচ্ছি যে, একটা বসার অন্তত জায়গা হয়েছে। আমরা লজ্জায় একটা কথা বলি না, এখন এই পার্লামেন্টের সেকেন্ড মোস্ট জুনিয়র হিসেবে একটা কথা বলছি। সেটা হচ্ছে যে, আমাদের ইউএনও মহোদয়ের একটা গাড়ি থাকে, উপজেলার চেয়ারম্যানের একটা গাড়ি থাকে, আমাদের ভাড়ায় গাড়ি চালাইতে হয়। আপনাদেরকে আমরা লজ্জায় এটা বলতে পারি না। আমরা এটা লজ্জায় কোথাও বলতে পারি না। এখন আমাদেরকে যদি একটা বসার ব্যবস্থা করে দিছেন। এখন মানুষের কাছে যাওয়ার জন্য যদি একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দেযন তাহলে আমাদের জন্য একটু সুবিধা হয়। মানুষের কাছে একটু যাইতে পারি।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, আজকে এমপিদের প্রাপ্তির পরে অপ্রাপ্তির খবরটা বলতে চাচ্ছিলাম না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেদিন সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন, আমাদের পার্লামেন্টারি পার্টির মিটিংয়ে প্রথমেই দু’টা অনুশাসন দিয়েছেন যে, আমরা এমপিরা এই নতুন পার্লামেন্টে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আলাদা কোনও সুযোগ-সুবিধা নেব না। সেই হিসাবে তিনি অনুশাসন দিয়েছেন। একটা আইন আছে এটা সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে সংসদ সচিবালয় থেকেই লিড করবে। এই আইনে আমরা একটা সংশোধনী আনব যে, এই মহান জাতীয় সংসদের কোনও সদস্য আমরা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নেব না।
তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশের সরকারের সমস্ত মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা-যারা গাড়ি পায়, তেল পায়, সেটা আমরা কেবিনেটে একটা ডিসিশন নিয়েছি- ইতোপূর্বে আপনারা নিশ্চয়ই নিউজ পেপারে দেখেছেন। এই ক্রাইসিসের সময় শতকরা ৩০ শতাংশ তেলের বরাদ্দ আমরা কমিয়ে দিয়েছি। কৃচ্ছ্রতা সাধনের উদ্দেশ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের আপাতত লোন সুবিধা যেগুলো আছে, সেটাও কাটেল করা হয়েছে ফর দ্য টাইম। এগুলো আমরা সবই জনবান্ধব এবং জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী যাচ্ছি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী। মাননীয় সংসদ সদস্য নিশ্চয়ই অফিস পেয়ে খুশি হয়েছেন। আবার গাড়ি না পেলে নাখোশ হবেন। সেইজন্য কিভাবে কি করা যায় সংসদ সদস্যদের যানবাহনের ব্যবস্থা, সেটা আলাদাভাবে আলাপ-আলোচনা করে সরকারি দল ও বিরোধী দল একটা বিহিত ব্যবস্থা করার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি।
এসময় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে গেলে স্পিকার বলেন, বিরোধী দলের নেতা বলুন। পরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমিও আজকে ধন্যবাদ দিতে দাঁড়ালাম। কারণ বিরোধী দলেরই একজন সদস্য এই দাবিটা সামনে এনেছিলেন। ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে এটাকে কগনিজেন্সে নিয়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়ার জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই। তবে একটা কথা আছে যে, ছোটদেরকে কখনও না বলতে নাই। তাদের আবদারে সব সময় হ্যাঁ বলতে হয়। হাসনাত আবদুল্লাহ বলে ফেলেছে সঙ্গে সঙ্গে না বললে আমি বেশি খুশি হতাম। আমি চিন্তা করেছিলাম যে, এত বড় খবরের পরে বিরোধী দল থেকে কিছু মিষ্টি খাওয়ায় দেব। কিন্তু এখানে এসে বাধাগ্রস্ত হয়ে গেছি, পারলাম না। একটা ধাক্কা খাইলাম। এসময় স্পিকার বিরোধী দলীয় নেতাকে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার শেষ লাইনে বলেছেন যে, এটা তারা বিবেচনা করে দেখবেন।











