ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থীরা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে তারা মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মনোনয়নপত্র জমার বিষয়ে মঙ্গলবার বিকালে রিটার্নিং অফিসার ও ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ে বিএনপি ও এ জোটের ৩৬টি মনোনয়নপত্র পেয়েছি। জামায়াতের জোট থেকে ১৩ টি ও স্বতন্ত্র জোট থেকে একজন এর মনোনয়নপত্র পেয়েছি। এর বাইরে আমরা তিন জনের মনোনয়নপত্র পেয়েছি।’
বিএনপি জোটের ৩৬ জন
বিএনপি জোটের বরাদ্দ পাওয়া ৩৬ জনের মধ্যে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপি নেতাদের স্ত্রী-কন্যা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ও অঙ্গসংগঠনের নেত্রীরা রয়েছেন।
প্রার্থীরা হলেন— সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোছাম্মৎ ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা এবং রেজেকা সুলতানা।
জামায়াত জোটের ১৩ জন
এ জোটের ১৩ জনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আট জন, এনসিপির দুজন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও জাগপা থেকে একজন করে রয়েছেন। এর বাইরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা-ও এ জোটে মনোনয়ন পেয়েছেন।
যারা মনোনয়নপত্র জমা দিলেন— জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মারজিয়া বেগম, ছাত্রী সংস্থার সাবেক সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার মুন্নী, মহিলা জামায়াতের মিডিয়া ও প্রচার সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু, সিলেট মহানগর মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাহফুজা হান্নান, বগুড়া অঞ্চল পরিচালক সাজেদা সামাদ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেক্রেটারি শামছুন্নাহার বেগম, নারী অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য মারদিয়া মমতাজ, শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্য সচিব মাহমুদা আলম মিতু, জাগপার সভাপতি তাসমিয়া প্রধান ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাহবুবা হাকিম।
স্বতন্ত্র ও অতিরিক্ত তিন প্রার্থী
স্বতন্ত্র জোটের পক্ষ থেকে ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সুলতানা জেসমিন জুঁই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর বাইরে দল বা জোটের সমর্থন ছাড়াই ব্যক্তিগতভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জয়পুরহাটের মোছা. মেহেরুন নেছা, ঝিনাইদহের মাহবুবা রহমান (এ দুজন বিএনপি নেত্রী) এবং শামীমা আক্তার।
অতিরিক্ত এই তিনজনের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার বলেন, ‘তিনজন কোনো দল বা জোট থেকে আবেদন করে নি। উনারা নিজেদের মতো করে নিজেরা জমা দিয়েছেন। বাছাইয়ের সময় বিষয়টি শেয়ার করবো। বুধবার ও বৃহস্পতিবার বাছাই করা হবে; ২৬ এপ্রিল আপিল করার সুযোগ রয়েছে নির্বাচন কমিশনে।’
ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়বে না
আইন অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে ভোটে জয়ী দল বা জোটের আসন সংখ্যার অনুপাতে সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, বুধবার ও বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র বাছাই হবে। ২৭ ও ২৮ এপ্রিল আপিল নিষ্পত্তি শেষে ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ এবং ১২ মে ভোটের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। তবে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে আসন সংখ্যার সমান সংখ্যক (৫০ জন) বৈধ প্রার্থী থাকলে এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় পার হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করবে ইসি। সে অনুযায়ী ১২ মে আর ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়বে না। সাধারণত সংরক্ষিত মহিলা আসনে ভোটাভুটির নজির নেই।











