শিবালয়ে সশস্ত্র পাহারায় অবৈধ বালু উত্তোলন—নৌপুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা।
আজ ১৬ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জ জেলার -এর তেওতা ও আলোকদিয়ার চর এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের পাহারায় অবাধে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা না থাকায় একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হলেও দায় এড়াচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এবং হাজারো বসতবাড়ি।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত আলোকদিয়ার চর এলাকায় স্থানীয় আঃ রশিদ, আঃ করিম ও মেন্জু মেম্বারের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ একটি চক্র দুটি অবৈধ ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে ব্যাপক হারে বালু উত্তোলন করছে। জাতীয় গ্রিডের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন এলাকা থেকে অন্তত ৫০টিরও বেশি বাল্কহেডে বালু লোড করা হচ্ছে, যা সরাসরি রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোর জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
এ সময় দেখা যায়, সশস্ত্র যুবকদের একটি দল পুরো এলাকা ঘিরে পাহারার বেষ্টনী তৈরি করেছে। সাংবাদিকদের বহনকারী ট্রলারের চালক জানান, “কাছাকাছি যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ—তারা গুলি চালাতেও দ্বিধা করবে না।” স্থানীয়দের দাবি, এই চক্রে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও সর্বহারা গ্রুপের সদস্যরা সক্রিয় রয়েছে। তাদের মধ্যে ২০২৩ সালে -এর কাছে আত্মসমর্পণকারী সর্বহারা নেতা বাপ্পি ও রকির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এলাকায় অন্তত ৬ থেকে ৭টি অবৈধ বালু উত্তোলনকারী সিন্ডিকেট সক্রিয়। বালুর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রায়শই এসব গ্রুপ নিজেদের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যা জননিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ হুমকি তৈরি করছে। স্থানীয়দের মতে, এই অবৈধ বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ডাকাত ও চাঁদাবাজদের ভাড়া করে আনা হচ্ছে।
অবৈধ বালু উত্তোলন ও নৌপথে চাঁদাবাজির বিষয়ে শিবালয়-পাটুরিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে দাবি করেন। এমন গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নৌপুলিশের এ ধরনের বক্তব্যকে ‘দায়সারা’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মনে করছেন সচেতন মহল। প্রশ্ন উঠেছে—আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী কি এভাবে দায় এড়িয়ে যেতে পারে?
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা গণমাধ্যমকে জানান, “উক্ত অঞ্চলে বর্তমানে কোনো বৈধ বালুমহল নেই। কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ। পাশাপাশি সশস্ত্র অবস্থানে এ ধরনের অপরাধ সংঘটন রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের শামিল, যা দমন করতে ব্যর্থতা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে যৌথ বাহিনীর অভিযান চালিয়ে অবৈধ ড্রেজার জব্দ, সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার এবং নদী ও জনপদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।








