সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিভিন্ন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় যমুনা নদীকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, আন্তঃজেলা সশস্ত্র চক্রের নেতা হিসেবে পরিচিত ‘বাপ্পি’র নেতৃত্বে রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধভাবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে,যা ইতোমধ্যে আশপাশের বৃহৎ জনবসতিকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
সরেজমিনে খিদিরচাপরি,রানদানপুর, দেবগলা ও গোয়াইল হোসেন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়,সন্ধ্যার পর থেকেই নদীতে একাধিক ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। গত ২৬ আজ ২৭ এপ্রিল রাতেও একই চিত্র দেখা গেছে।
অন্তত তিনটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন অবৈধ ড্রেজার ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় সশস্ত্র যুবকদের পাহারায় কাজ চালাতে দেখা যায়।যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ,এই চক্রের সদস্যরা অবৈধ কার্যক্রমে বাধা দিলে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে থাকে। ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
তাদের দাবি, বারবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল নৌপুলিশের পুলিশ সুপার মোঃ সোহেল মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। কেউ এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে তার এই বক্তব্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে, নিজেদের বসতভিটা রক্ষায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনগণ। বিভিন্ন গ্রাম থেকে শতশত মানুষ যমুনা নদীর তীরে জড়ো হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
বিশেষজ্ঞদের মতে,অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করতে পারে, যা বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও অবকাঠামোর জন্য মারাত্মক হুমকি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে কোনো সময় বড় ধরনের জনরোষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—বারবার অভিযোগ জানানোর পরও প্রশাসন কেন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না? পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে এর দায়ভার কে নেবে—এমন প্রশ্ন এখন সর্বত্র।











