চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাবের ক্যাম্পে হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হামলার আগে সন্ত্রাসীরা একাধিক স্থানে রাস্তা কেটে দেয়, যেন বাড়তি ফোর্স সেখানে প্রবেশ করতে না পারে। হামলায় র্যাবের নির্মাণাধীন একটি ক্যাম্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রবিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে এ হামলা চালানো হয়। ঘটনার সময় সন্ত্রাসীদের হামলার জবাবে আত্মরক্ষার্থে র্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছুড়ে। এক ঘণ্টারও বেশি সময় উভয়পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় অব্যাহত ছিল। র্যাব সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনো হতাহত নেই। তবে হামলার পর অভিযান চালিয়ে জড়িত সন্দেহে ২০-২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

জানা গেছে, সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য’খ্যাত দুর্গম পাহাড়ি এলাকাটিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ক্যাম্প রয়েছে। এর মধ্যে একটি লক্ষ্য করে হঠাৎ গুলিবর্ষণ শুরু করে হামলাকারীরা। এদিকে হামলার পর সেখানে যৌথ বাহিনীর অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো এলাকায় তল্লাশি চালায় যৌথবাহিনী। তবে এস্কেভেটর দিয়ে প্রবেশ মুখের প্রধান সড়কসহ চারটি স্থানে রাস্তা কেটে দেওয়ায় ভেতরে যেতে বেগ পেতে হয়েছে যৌথবাহিনী সদস্যদের।
এর আগেও এ এলাকায় র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা হয়েছিল। তখন হামলায় এলিট ফোর্সের একজন উপসহকারী পরিচালক নিহত ও কয়েকজন আহত হন। ওই ঘটনার জন্য সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীকে দায়ী করা হয়েছে। ঘটনার পর গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্য যৌথ অভিযান চালিয়ে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। অভিযানের পর সন্ত্রাসীরা গা ঢাকা দেয়। তবে সেখানে গোপনে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিল সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনী।

র্যাব-৭ অধিনাযক লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ইয়াসিন বাহিনীর শতাধিক সদস্য লাঠিসোটা, ধারালো অস্ত্র নিয়ে আলীনগরস্থ যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা করে। তারা একে-৪৭ এর মতো অত্যাধুনিক রাইফেল থেকে গুলি বর্ষণ করে। ক্যাম্পে থাকা আমাদের সদস্যরাও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পে পেছনের দেয়াল ভাঙার চেষ্টা করে। তাদের প্রতিহত করা হয়। তবে পাশে নির্মাণাধীন আরেকটি ক্যাম্পে এস্কেভেটর দিয়ে সন্ত্রাসীরা ভাঙচুর চালায়। এতে ক্যাম্পটির ৭০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হামলার আগে চারটি স্থানে এস্কেভেটর দিয়ে রাস্তা কেটে ফেলে সন্ত্রাসীরা। সে কারণে গাড়ি মূল সড়কে রেখে পায়ে হেঁটে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। এই সুযোগে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। সন্ত্রাসীদের হামলার সময় ইটপাটকেলের আঘাতে র্যাবের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া অভিযানে সন্দেহভাজন ২০-২৫ জনকে আটক করা হয়েছে, বলেও জানান র্যাব অধিনায়ক।












