সর্বশেষ

নারায়ণগন্জের রূপগঞ্জে ছাদবাগান ও নার্সারির নীরব বিপ্লব ঘটছে

মোঃ মনির হোসেন (নারায়ণগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার আনাচে-কানাচে মানুষের ছাদবাগান ও বৃক্ষরোপণে আগ্রহ বর্তমানে অনেক বেড়েছে। নিজেদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে এলাকার মানুষজন ফল ও সবজির আবাদ ব্যপকভাবে করছে।

এছাড়া ফলদ চারা ও কলমের চাহিদা অনেকগুণে বেড়ে যাওয়ায় রূপগঞ্জে নার্সারির সংখ্যাও বেড়েছে অনেকগুণ। এর ফলশ্রুতিতে কৃষি অর্থনীতিতে ঘটছে নীরব বিপ্লব। ইতিমধ্যে এই নার্সারির ব্যবসা দিন দিনবৃদ্বিতে সফলতায় পওয়ায় অনেকের ভাগ্য বদলে দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গিয়েছে , পূর্বাচলে ৩০০ফুট সড়কের আশপাশেসহ রূপগঞ্জ উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় দুই শতাধিক নার্সারি রয়েছে। এছাড়া রূপগঞ্জের অধিকাংশ ভবনেই ছোটবড় অনেক ছাদবাগান রয়েছে। ছাদবাগানের সংখ্যা প্রায় তিন সহস্রাধিক হবে। এই সব ছাদবাগান ও নার্সারিতে হাড়িভাঙ্গা, ল্যাংড়া, আমরূপালি, হিমসাগর, ফজলি, গৌরমতি, বারি-৪, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, চিয়াংমাই, ব্রুনাই কিং, মিয়াজাকি, ডগমাই জাতের আম, আঠাহীন কাঁঠাল, ভিয়েতনাম ও কেরালার নারকেল, সুপারি, সফেদা, শরিফা, বেদানা, মাল্টা, কুল, কামরাঙা, সেগুন, মেহগনি, শাদ, বাবলা, তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ, চালতা, কদবেল, আপেল, কাজুবাদাম, রক্ত চন্দন, শ্বেত চন্দন, পেয়ারা, আঙুর, লিচু, জাম, আপেল, ডালিম, ইউক্যালিপটাস, শিলকড়াই, শিরীষ, নিম, আমড়া, লটকন, চইবান, লবঙ্গ, হরীতকী, বহেরা, অর্জুন, বিভিন্ন জাতের লেবু, মিষ্টি তেঁতুল, অ্যালোভেরা, গোলাপ, ক্যাকটাস এবং অন্যান্য ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা পাওয়া যায়।

প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা এ সব নার্সারি থেকে কম দামে চারা কিনে গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারে বিক্রি করে। চাহিদা ও গুণগতমান অনুসারে একটি চারার পাইকারি মূল্য ৫ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

বাউফলে নওমালায় বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি

নার্সারি মালিকরা জানিয়েছেন, বছরে চারা বিক্রির মৌসুম হচ্ছে দুটি। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিক্রি হয় বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ। তবে সেটা মূল ব্যবসার সময় নয়। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিক্রি হয় বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা। মূলত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস সামনে রেখে সারা বছর বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়।
পূর্বাচলের নোয়াখালী সওদা নার্সারির কর্মচারী শফিকুল ইসলাম বলেন, নার্সারিতে শুক্র ও শনিবার কেনাবেচা বেশি হচ্ছে। ফলদ গাছের চাহিদা অনেক বেশি। বিক্রি হচ্ছে প্রচুর।

মঙ্গলখালী গ্রামের ছাদবাগানের মালিক হাসিনা আক্তার বলেন, অনুকূল পরিবেশ থাকায় ছাদ বাগানে ফল ও ঔষধি গাছের পাশাপাশি শাক সবজি বিপুল ফলন হচ্ছে।

টবে উপযুক্ত মাটি তৈরি, নিয়মিত ও পরিমিত পানি সেচ, জৈব সারের ব্যবহার এবং পানি নিঃষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে ছাদ বাগানে সফলতা আসে।

মাছিমপুর গ্রামের ছাদবাগানের মালিক মুকুল হোসেন বলেন, পোকা মাকড় দমন ও নিয়মিত গাছের ডালপালা ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে গাছ সুস্থ্য ও সবল রাখলে ছাদবাগানে গাছে ফলন ভাল হচছে প্রচুর।

ময়ননসিংহে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশীপ–২০২৬ এর উদ্বোধন

মুড়াপাড়া এলাকার মা নার্সারির মালিক মুজিবর রহমান বলেন, বর্ষাকাল বৃক্ষরোপণের অনুকুল হওয়ায় চারাগাছের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশী। মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন ফল ও ঔষধি গাছের চারা কিনতে নার্সারিগুলোতে ভিড় জমাচছেন।

আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মানসুরা জান্নাত মনিমা বলেন, বাড়ির বারান্দার জন্য তিনি বেশ কিছু ফুলের চারা কিনেছেন। এখানে দাম কম।
নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আঃ জাঃ মুঃ আহসান শহীদ সরকার বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলায় নিবন্ধিত নার্সারির সংখ্যা সাত শতাধিক। এছাড়া অনিবন্ধিত নার্সারির সংখ্যা আরো বেশি। সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলায় মোট নার্সারির সংখ্যা সহস্রাধিক।

রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার আফরোজা সুলতানা বলেন, নার্সারি নিবন্ধন না করলে জরিমানার কোনো বিধান না থাকায় অধিকাংশ নার্সারির মালিক তা নিবন্ধন করতে আগ্রহী না। রূপগঞ্জ উপজেলায় দিন দিন নার্সারির ব্যবসা প্রসারিত হচ্ছে। সেখান থেকে সারা দেশে চারা সরবরাহ করা হয়।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, নার্সারির মালিকদের ব্যবসা সফল ভাবে করার জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। অত্যন্ত লাভজনক ও সম্ভাবনাময় এ খাত দিন দিন উন্নতি ও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
২১ আগস্ট ২০২৬
Trulli

নারায়ণগন্জের রূপগঞ্জে ছাদবাগান ও নার্সারির নীরব বিপ্লব ঘটছে