হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ও সরকারি বিধিনিষেধ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম আলোকদিয়া চর এলাকায় নদী থেকে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে সংঘবদ্ধ বালু খেকো চক্রটি দিনরাত অবাধে এই তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে ভয়াবহ চিত্র:শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সরেজমিনে আলোকদিয়া চরের কাছে জাতীয় গ্রিডের ৭ ও ৮ নম্বর বৈদ্যুতিক টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায় বালু উত্তোলনের ভয়াবহ দৃশ্য।
যমুনা নদীর ওপর জাতীয় সঞ্চালন লাইনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি টাওয়ারের আশপাশে প্রায় আটটি বড় বড় ড্রেজার বসিয়ে সরাসরি নদী ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নদীজুড়ে অন্তত শতাধিক বাল্কহেড (বালুবাহী ট্রলার) সারিবদ্ধভাবে নোঙর করে রাখা হয়েছে, যেখানে দ্রুত গতিতে বালু লোড-আনলোড ও দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহনের কাজ চলছে। ভাঙন ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা:স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আদালতের উচ্চতর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অত্যন্ত প্রভাবশালী ওই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দাপটের সাথে বালু ব্যবসা চালিয়ে আসছে। যমুনা নদী থেকে এভাবে লাগাতার বালু উত্তোলনের ফলে চরাঞ্চলের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতীয় গ্রিডের বিশাল টাওয়ার দুটি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, টাওয়ারের এত কাছাকাছি স্থান থেকে বালু তোলায় নদীর তলদেশের মাটির গঠন দুর্বল হয়ে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ধস নামতে পারে, যা বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় বিপর্যয় ঘটাতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রশাসনিক নীরবতা:অভিযোগ রয়েছে,স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু ব্যক্তির অলিখিত যোগসাজশেই চক্রটি কোনো বাধা ছাড়া কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য নিতে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন আরা সুলতানার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ফলে এ বিষয়ে প্রশাসনিক কোনো পদক্ষেপ বা ব্যাখ্যা জানা সম্ভব হয়নি। আইনি ব্যবস্থা ও প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের দাবি:হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা অবস্থায় প্রকাশ্যে বালু উত্তোলনের ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন সমাজ ও পরিবেশবাদীরা। তারা অতি দ্রুত ঘটনাটি আইনগতভাবে তদন্ত করে বালু উত্তোলনকারী সিন্ডিকেট ও তাদের আশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে জাতীয় সম্পদ রক্ষা ও আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা।














