নিয়মিত অভিযান ও প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনার পরও সাভারে কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না ফুটপাত দখল ও মহাসড়কে অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার মাঝেও কিছুদিন পার হতেই পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠছে দখলদার ও অবৈধ রিকশা চালকরা। ফলে একদিকে যেমন পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রধান সড়কে হাঁটতে হচ্ছে, অন্যদিকে তীব্র যানজট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
সাভারের ব্যস্ততম ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড,শিমুলতলা, পোল্ট্রি ফার্ম এবং আশুলিয়া রোড এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ফুটপাতই হকার ও ফুটপাত কেন্দ্রিক অটোরিকশা স্ট্যান্ডের দখলে। স্থানীয়দের অভিযোগ,প্রশাসন কিছুদিন পর পর উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ফুটপাত মুক্ত করলেও কয়েকদিনের ব্যবধানে আবারও পূর্বের জায়গায় ফিরে আসে প্রভাবশালী চক্র। বাধ্য হয়ে পথচারীদের মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হয়, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
হাইওয়ে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা ও ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা না করেই ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে প্রতিদিন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হাজার হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। চালকদের ট্রাফিক সচেতনতার অভাব এবং অনিয়ন্ত্রিত গতির কারণে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। ট্রাফিক পুলিশ সংকেত দিলেও অনেক সময় তা না মেনে বেপরোয়া গতিতে চলাচলের অভিযোগ রয়েছে এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে।
নিয়মিত যাতায়াতকারী স্থানীয় এক পথচারী আক্ষেপ করে বলেন,আমরা প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। ফুটপাতে হাঁটার উপায় নেই, আবার মহাসড়কেও অটো রিকশার বেপরোয়া গতির কারণে নিরাপদে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অভিযান চালিয়ে সাময়িক সমাধান হলেও স্থায়ী কোনো সুফল আমরা পাচ্ছি না।”
নগর পরিকল্পনাবিদ ও সচেতন মহলের মতে, কেবল সাময়িক উচ্ছেদ অভিযান দিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন: অভিযান পরবর্তী সময়ে পুনরায় যেন দখল না হয়, সেজন্য স্থায়ী ট্রাফিক চৌকি ও আনসার/পুলিশ মোতায়েন রাখা। অটোরিকশার জন্য শহরের ভেতরের সংযোগ সড়কগুলোতে নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করা, যাতে তারা মূল মহাসড়কে না উঠতে পারে। অবৈধ অটোরিকশার গ্যারেজ এবং ব্যাটারি চার্জিং স্পটগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা। ফুটপাত ফাঁকা রাখার পাশাপাশি নিবন্ধিত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট স্থানে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া।
প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইনের প্রয়োগই পারে সাভারের সাধারণ মানুষকে এই দূরসহ যানজট ও ফুটপাত দখলের ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে—এমনটাই প্রত্যাশা সাভার বাসীর।

















