বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেছেন, মোহাম্মদ মিঠুনকে ঘিরেই ‘লর্ড মিঠুন’ শব্দটির প্রচলন শুরু হয়েছিল। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার চাপ সামলাতে না পারা এবং ধারাবাহিকতার অভাব মিঠুনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলেছিল।মোহাম্মদ মিঠুন সর্বশেষ ২০২১ সালে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। ‘এ’ দলের হিসাব ধরলে ২০২২ সালে বাংলাদেশের জার্সিতে মাঠে নামেন তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন। ২০২৬ সালে প্রায় চার বছর পর বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সফরে ডাক পেলেও কোনো ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি।
জাতীয় দলের হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৬১টি ম্যাচ খেলেছেন মিঠুন। ১০ টেস্টে তাঁর সংগ্রহ ৩৩৩ রান, গড় ১৮.৫০। ৩৪ ওয়ানডেতে করেছেন ৭১৪ রান, গড় ২৭.৪৬ এবং স্ট্রাইক রেট ৭৭.৫২। এ ছাড়া ১৭ টি-টোয়েন্টিতে তাঁর সংগ্রহ ১২৭ রান, গড় ১০.৫৮ এবং স্ট্রাইক রেট ৯৩.৩৮।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মিঠুন দাবি করেন, পারফরম্যান্স থাকা সত্ত্বেও তিনি জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রভাব কম থাকাও দল থেকে বাদ পড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল বলে দাবি করেন তিনি।তবে মিঠুনের এই বক্তব্যের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাবেক নির্বাচক হাবিবুল বাশার। যমুনা টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মিঠুনকে ঘিরে সমালোচনা এবং ‘লর্ড মিঠুন’ নামে পরিচিতি পাওয়ার বিষয়টি তাঁর মনে আছে। তাঁর মতে, সেই সমালোচনার প্রভাব মিঠুনের ওপর পড়েছিল।
হাবিবুল বাশার বলেন, ব্যক্তিগতভাবে মিঠুনকে তিনি ভালোভাবে চেনেন। তাঁর পর্যবেক্ষণে, মিঠুন স্বভাবগতভাবে নরম মনের মানুষ ছিলেন এবং সমালোচনা সহজভাবে নিতে পারতেন না। পাশাপাশি তাঁর পারফরম্যান্সেও ধারাবাহিকতার ঘাটতি ছিল।
মিঠুনের সামর্থ্যের প্রশংসা করে হাবিবুল বাশার জানান, তাঁর ব্যাটিং ছিল আকর্ষণীয়। বিশেষ করে বড় শট খেলার সক্ষমতা ও পরিষ্কারভাবে বল মারার দক্ষতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে সেই সামর্থ্য নিয়মিত পারফরম্যান্সে রূপ দিতে পারেননি তিনি।সাবেক এই নির্বাচকের মতে, কোনো ক্রিকেটার নিয়মিত ভালো পারফরম্যান্স করলে তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়া কঠিন। মিঠুনের ক্ষেত্রেও নির্বাচকদের সিদ্ধান্তের পেছনে পারফরম্যান্সের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে মনে করেন তিনি।মিঠুনের জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য সামনে আসায় বিষয়টি আবারও ক্রিকেটাঙ্গনে আলোচনায় এসেছে।












